অবশেষে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির নথিপত্র দুদকে জমা দেয়া শুরু করেছে সোনালী ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
বুধবার দুপুরে দুদকের অনুসন্ধানী টিমের কাছে সোনালী ব্যাংকের ৭ শাখার মধ্যে ৩ শাখার ঋণ সংক্রান্ত সত্যায়িত নথিপত্রের ২টি করে সেট জমা দিয়েছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা। শাখা ৩টি হচ্ছে , ঢাকার মতিঝিল বৈদেশিক বাণিজ্য কর্পোরেট শাখা,চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখা এবং চট্টগ্রামের লালদীঘি সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখা।
এদিকে আগামী সোমবারের মধ্যে ঢাকায় লোকাল অফিস,বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কর্পোরেট শাখা, গুলশান শাখা এবং নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখার নথিপত্রের সত্যায়িত কপি জমা দেয়া হবে বলে দুদকে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তারা।
সূত্র মতে, সোনালী ব্যাংকের চিহ্নিত ওই শাখা থেকে শতাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শ এবং নির্দেশনার পর দুদক সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে ওই ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার ঋণ সংক্রান্ত নথিপত্র চেয়ে গত বছর ২ ডিসেম্বর প্রথম দফা চিঠি পাঠায়। পরে গত ২৪ ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় দফা নথিপত্র সরবরাহের জন্য চিঠি পাঠায়। কিন্তু সোনালী ব্যাংক দুদকের চিঠির আলোকে তথ্য না দিয়ে সময় ক্ষেপন করে।
গত ১০ মার্চ অনলাইন দৈনিক 'টাইমনিউজবিডি.কমে' একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ১৩ মার্চ সোনালী ব্যাংক চিঠির মাধ্যমে দুদকে চাহিদা মোতাবেক নথিপত্র সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এই সংবাদটিও ১৯ মার্চ অনলাইন দৈনিক 'টাইমনিউজবিডি.কমে' প্রকাশিত হয়।
দুদকের চাহিদার মধ্যে রয়েছে, সোনালী ব্যাংক ঢাকার মতিঝিল বৈদেশিক বাণিজ্য কর্পোরেট শাখার গ্রাহক; মের্সাস বেরিল এপারেল্স লি: এবং মের্সাস ইউসুফ এন্ড কোম্পানীর ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ওই ব্যাংকের ঋণ উত্তোলন,এলসি, আমদানি ও রফতানি সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের পরিদর্শন রিপোর্টসহ যাবতীয় নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার গ্রাহক;ইমাম ট্রেডার্স,জামমির ভেজিটেবল ওয়েল লি:,একে এন্টারপ্রাইজ, মহিউদ্দিন কর্পোরেশন, কামাল এন্টারপ্রাইজ এবং অর্কিড ফ্যাশনের নামে ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সোনালী ওই শাখায় ঋণের আবেদন, ঋণ উত্তোলন,এলসি, আমদানি, রফতানি সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের লালদীঘি সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার গ্রাহক; মের্সাস সিদ্দিক ট্রেডার্স, মের্সাস বেঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিজ লি:,এভারেস্ট প্রাইভেট লি:,ইউরো এ্যাপারেলস লি:,এ্যাপারেল ফেয়ার লি:,মুক্তা এ্যাপারেলস লি:,লিবরা ফ্যাশন ওয়্যার লি:,বিউমন্ড গার্মেন্টস লি:,হোসেন এ্যাপারেলস লি:, মের্সাস একমি টেক্সটাইল এন্ড গার্মেন্টস লি: ইমন এ্যাপারেলস লি:, মডেল এ্যাপারেলস লি: ইউনাইটেড ফ্যাশন লি:,ডিউড্রপস এ্যাপারেলস লি:, রোজেন্ট গার্মেন্টস লি:,কোব এ্যাসোসিয়েটস লি:,এমাইকো ফেব্রিক্স লি:,তন্নী নীট ওয়্যার লি:, মৌসুমী টাওয়েল লি:এর নামে ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ব্যাংকের ওই শাখায় ঋণের আবেদন, বন্ধকী জমি,ঋণ উত্তোলন, এলসি, যাবতীয় নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত সোনালী ব্যাংক ঢাকায় মতিঝিল লোকাল অফিসের গ্রাহক ‘অল টেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লি: কেএনএস ইন্ডাস্ট্রিজ লি:,ক্যাংসান ইন্ডাস্ট্রিজ লি:,থারমেক্স টেক্সটাইল, ইকো কটন মিল্স, রহিমা ফুড কর্পোরেশন, এপেক্স উইভিং এন্ড ফিনিশিং মিল্স লি:, পদ্মা পলিকটন নীট ফেব্রিক্স লি:,কেএসএস নীট কম্পোজিট লি:,পিলুসীড টেক্সটাইল লি: প্রতিষ্ঠানের নামে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ঋণের আবেদন, ঋণ প্রদান,ব্যাংক কর্মকর্তাদের সুপারিশ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের নারায়নগঞ্জ সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার গ্রাহক; মের্সাস রুপসী গ্রুপের প্রতিষ্ঠান- রুপসী নীট ওয়্যার লি:, রুপসী ফেব্রিক্স লি:, রুপসী এমব্রয়ডারী, রুপসী ডিজাইন এন্ড প্রিন্টিংস ও মের্সাস সালমান নীট কম্পোজিট লি: এর নামে ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ঋণ উত্তোলন,এলসি,আমদানি,রফতানি যাবতীয় নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।
ঢাকা,একে ১৯ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসআর
অপরাধ
৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির নথি দুদকে
অবশেষে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির নথিপত্র দুদকে জমা দেয়া শুরু করেছে সোনালী ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। বুধবার দুপুরে দুদকের অনুসন্ধানী টিমের কাছে সোনালী ব্যাংকের ৭ শাখার মধ্যে ৩ শাখার ঋণ সংক্রান্ত সত্যায়িত নথিপত্রের ২টি করে সেট জমা দিয়েছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা।





