এটিএম বুথে জালিয়াতির ঘটনায় সিসি ক্যামেরায় পাওয়া ছবি দেখে বিদেশি এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ওই বিদেশির সঙ্গে আরও তিন বাংলাদেশিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ সোমবার বলেছে, সাইবার জালিয়াতির ঘটনায় এই প্রথম কোনো বিদেশি গ্রেপ্তার হল বাংলাদেশে।

গোয়েন্দা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার বিদেশি পিটার স্কেজেফান মাজুরেক নামের পোল্যান্ডের একটি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছিলেন। তার জন্ম ইউক্রেইনে।

পিটারের পাসপোর্টটি ভুয়া বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তার কাছে জার্মান নাগরিকত্বের একটি পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে, তার সত্যতা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

ঢাকার বনানীতে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) একটি বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসানোর সময় ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় এক বিদেশির ছবি পাওয়া গিয়েছিল বলে ব্যাংকটির করা মামলায় বলা হয়েছিল।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ইউসিবি কর্তৃপক্ষ বনানী থানায় মামলা করে এজাহারের সঙ্গে সিসিটিভির ভিডিও জমা দেয়।

এরপর ভিডিওতে দেখা ব্যক্তির মতো চেহারার পাঁচ বিদেশির উপর নজর রাখছিল পুলিশ। ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছিলেন, আসল অপরাধীর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই গ্রেপ্তার করা হবে।

 

এরপর সোমবার সকালে এক বিদেশিসহ বাংলাদেশি কয়েকজনকেও গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার।

 

রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার দুপুরে চারজনকে নিয়ে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ডিবি কর্মকর্তারা।

 

তিন বাংলাদেশি মোকসেদ আলী মাকসুদ, রেজাউল করিম শাহীন, রেফাত আহমেদ রনি সিটি ব্যাংকের আইটি শাখার কর্মকর্তা বলে ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

 

এতে বলা হয়, গ্রেপ্তার পিটার একটি আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রের সদস্য। বুলগেরিয়া এবং ইউক্রেইনের এক নাগরিককে নিয়ে এই জালিয়াতির পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন তিনি।

 

বাংলাদেশের তিনটি ব্যাংকের এটিএম বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে ওই তথ্য ব্যবহার করে ‘ক্লোন’ এটিএম কার্ড তৈরির মাধ্যমে সম্প্রতি গ্রাহকদের অজান্তে জালিয়াত চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এই জালিয়াত চক্র।

ইউসিবি,ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড ও সিটি ব্যাংকের ছয়টি বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে তথ্য চুরির প্রমাণ পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ওই যন্ত্র বসানো অবস্থায় বুথগুলোতে ১২০০ কার্ডের লেনদেন হয়েছে। আর এ পর্যন্ত ৪০টি কার্ড ক্লোন করে গ্রাহকের প্রায় ২০ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার তথ্য গোয়েন্দারা পেয়েছেন বলে তথ্য এসেছে গণমাধ্যমে।

এটিএম কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষও পল্লবী থানায় একটি মামলা করেছে। গোয়েন্দা পুলিশ পুরো বিষয়টির তদন্ত করছে।

ওএফ