সহ-সভাপতি শুভ্রা মাহমুদ জ্যোতিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান অনিককে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
মঙ্গলবার রাতে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহাজাদা এ বিষষটি নিশ্চিত করেন।
মজিবুর রহমান অনিকের বহিষ্কারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, সংগঠনের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় তাকে সংগঠনে রাখা কোনো সুযোগ নেই। সেই হিসেবে অনিককে বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান অনিকের বিরুদ্ধে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনেছেন একই কলেজের ছাত্রলীগের সহসভাপতি শুভ্রা মাহমুদ জ্যোতি।
অভিযুক্ত অনিক ছাত্রলীগের কাফরুল থানার নেত্রী ও মিরপুর বাঙলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্সের ছাত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা বৃষ্টির আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলারও এজহারভুক্ত ২নং আসামি।
এর আগেও একবার অনিকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছিলেন ছাত্রলীগ নেত্রী শুভ্রা। ওই ঘটনায় মামলাও দায়ের করা হয়।
শুভ্রা অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সকালে অনিক ১০-১৫ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে মিরপুরের দারুস সালাম এলাকায় তার ফ্ল্যাটে যান। সেখানে তারা তাকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে সেখান থেকে দারুস সালাম থানায় নিয়ে তাকে দীর্ঘ চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।
মারধরের কারণ জানতে চাইলে শুভ্রা জানান ‘অনিকের সঙ্গে ইডেন কলেজের এক ছাত্রীর প্রেম ছিল। ওই মেয়েকে বিয়ের কথা বলে অনিক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। একটা সময় এনিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে ওই তরুণী অনিকের নামে মামলা করতে চায়। তখন তার পরিবার বাধা দেয়। পরে মেয়েটি দুদিন আগে আমার বাসায় এসে আশ্রয় নেয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘মেয়েটিকে নিয়ে সোমবার আমরা লালবাগ থানায় মামলা করতে যাই। থানা থেকে বলা হয়, মিরপুর থানায় গিয়ে মামলা করতে। মিরপুর থানায় গেলে তারা অভিযোগ পেয়ে অনিককে ধরতে তার বাসায় যায়। সেখান থেকে ফিরে পুলিশ জানায়, এটা তাদের থানার অধীনে পড়েনি, দারুস সালাম থানায় মামলা করতে হবে।’
শুভ্রা বলেন, ‘তখন আমরা আদালতে গিয়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু তার আগেই অনিক খবর পেয়ে নেতাকর্মী ও পুলিশ নিয়ে আমার বাসায় এসে আমাকে মারধর করে। আমি বাম কানে শুনতে পাচ্ছি না। এখন চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছি।’
তবে শুভ্রাকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মিরপুর বাঙলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান অনিক। তিনি বলেন, ‘শুভ্রা আমার কলেজের ছোটবোন। আমি কেন তাকে মারধর করতে যাব। আর ইডেন কলেজের যে মেয়ের কথা বলা হচ্ছে তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্কই নেই। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।’
জেড





