৭১'র মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় পার্টির সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ৩২ তম সাক্ষী ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা(আইও) মনোয়ারা বেগমের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেছে ট্রাইব্যুনাল। পরে মনোয়ারা বেগমের শারীরিক অসুস্থতার কারণে জবানবন্দি গ্রহণ অসমাপ্ত অবস্থায় রেখে মামলার কার্যক্রম আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল জবানবন্দি গ্রহণ মূলতবি করে এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর রানাদাস গুপ্ত এবং কায়সারের পক্ষে আব্দুস সুবহান তরফদার ও সাজ্জাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে প্রসিকিউটর রানাদাস গুপ্ত জানান, আইও অসুস্থ থাকায় প্রসিকিউশন সময়ের আবেদন করলে আগামী ৭ জুলাই পরবর্তী জবানবন্দি গ্রহণের দিন ঠিক করে ট্রাইব্যুনাল।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ কায়সারের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য(ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম।

গত ২ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ(চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

কায়সারকে গণহত্যার ১টি,হত্যা,নির্যাতন,অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি এবং ধর্ষণের দু’টিসহ মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে।


গত বছরের ৫ আগস্ট শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়ে বর্তমানে রাজধানীতে ছেলের বাসায় রয়েছেন কায়সার। কায়সার হচ্ছেন দ্বিতীয় কোনো আসামি যাকে জামিনে রেখে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছে।

গত বছরের ২১ মে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পরদিন ২২ মে কায়সারের জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

কায়সারের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে,'৭১ এ সৈয়দ কায়সার প্রথমে হবিগঞ্জ মহাকুমা শান্তি কমিটির সদস্য ও রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ৫০০/৭০০ স্বাধীনতাবিরোধী লোক নিয়ে নিজের নামে ‘কায়সার বাহিনী’ নামে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করার জন্য একটি সহযোগী বাহিনী গঠন করেন।

ঢাকা, কেএ, ০২ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস