রাজধানীতে ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া না দেয়ার ব্যাপারে বাড়িওয়ালাদের কোনো নির্দেশনা দেয়নি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শুধু ভাড়াটিয়াদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে। বাড়িওয়ালা কাকে বাড়ি ভাড়া দিবে তা তাদের ব্যাপার বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান।

শনিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি কল্যাণপুরে একটি ব্যাচেলর বাসায় জঙ্গি আস্তানার খোঁজ পাওয়ায় ওই এলাকায় ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া পুরো রাজধানীতেই ব্যাচেলরদের ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। অনেককেই বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিয়ে দেয়া হয়েছে এবং এই সুযোগে বাসা ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছেন বাড়িওয়ালারা।

মাসুদুর রহমান আরও বলেন, কে ব্যাচেলর এবং কে বিবাহিত এটা মুখ্য বিষয় না। মূল বিষয়টা হলো ভাড়াটিয়াদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহে রাখা। ব্যাচেলরদের বাসা থেকে নামিয়ে দিতে বা বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিতে কোনোরকম নির্দেশনা দেয়া হয়নি। বাড়ির মালিক কাকে ভাড়া দেবেন এটা তার নিজস্ব ব্যাপার। আমরা শুধু চাই সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ভাড়াটিয়াদের পুনাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, যেসব জায়গায় এখন পর্যন্ত জঙ্গি আস্তানা পাওয়া গেছে, সবগুলোতেই বিস্ফোরক পাওয়া গেছে। বিস্ফোরকগুলো বিস্ফোরিত হলে জঙ্গিরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হতো, তেমনি প্রতিবেশীরাও ক্ষতিগ্রস্থ হতো। এজন্যই বাড়িওলাদের নিজেদের স্বার্থের সব ভাড়াটিয়ার পুর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

প্রতি রাতেই রাজধানীতে পুলিশের অভিযান চলছে। অভিযানের সময় বাসা ও মেসবাড়িগুলোতে বাসিন্দাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) চাওয়া হচ্ছে। যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি, এনিয়ে তাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মাসুদুর রহমান বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে না থাকলে জন্মসনদ বা স্থানীয় চেয়ারম্যানের নাগরিকত্ব সনদ সাথে রাখবেন।

ভাড়াটিয়াদের ফরম জমা নেয়ার পর পুলিশ কোনো রিসিভ কপি দিচ্ছে না। এগুলো হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে পরে বাড়িওয়ালার ওপর দোষারোপ হতে পারে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমা নেয়ার পর তথ্য যাচাই বাছাই শেষে প্রত্যেক বাড়িওয়ালাকেই রিসিভ কপি দেয়া হবে।

এমআইএস