একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে মাও. সাঈদী ও রাষ্ট্রপক্ষের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তাকে আপিলে দেওয়া আমৃত্যু কারাদণ্ডই বহাল থাকল।
তবে আপিল বিভাগের এ রায়ে ‘সন্তুষ্ট’ হতে পারেননি সাঈদীর পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা মনে করেছেন, ন্যায়বিচার পাননি।
আজ সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৫ সদস্যের বেঞ্চ রিভিউ খারিজের রায় দেন।
রায় দেওয়ার পর পরই আদালত প্রাঙ্গণে মাও. দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চেয়ারম্যান মাসুদ বিন সাঈদী গণমাধ্যমের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
মাসুদ বিন সাঈদী বলেন, ‘আপিল বিভাগের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমরা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির জন্য যেসব প্রমাণ-দলিল দাখিল করেছি, তাতে তাঁর একদিনের দণ্ডও হওয়ার কথা নয়।’
‘তারপরও সর্বোচ্চ আদালতের রায় আমাদের মানতে হবে, শ্রদ্ধা দেখাতে হবে।’
সাঈদীর ছেলে আরও জানান, ৪ দিন আগে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি সুস্থ আছেন, স্বাভাবিক আছেন। তিনি দেশবাসীকে সালাম জানিয়েছেন। তিনিও তাঁর মুক্তি আশা করেছিলেন।
আজ সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন দিয়ে শুনানি শুরু হয়। বেলা ১১টা ৫ মিনিটে শুনানি শেষে রায় দেন আপিল বিভাগ। এর আগে গতকাল রোববারও একই বেঞ্চে শুনানি হয়।
বেঞ্চের অপর বিচারপতিরা হলেন- আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও মির্জা হোসেইন হায়দার।
রাষ্ট্রপক্ষ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রিভিউ আবেদন করে। অন্যদিকে খালাস চেয়ে সাঈদীর আইনজীবীরা রিভিউ আবেদন করেন। দুটি রিভিউ খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মাওলানা সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের সাজা কমিয়ে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
মুস্তাঈন





