জনপ্রিয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘কাফেলার’ উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকীর এমন করুণ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তার ভক্ত-অনুসারীরা।

তাই তারা প্রিয় এ মানুষটির মৃত্যুর খবর শুনেই মাঝরাতে ভিড় করেন ফারুকীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসার সামনে।

রাতে বাসার সামনে গিয়ে দেখা যায় দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন হাজারো ভক্ত ও সাধারণ মানুষ।

বুধবার রাত সোয়া ৯টার পর সুপ্রিম কোর্টের খতিব ফারুকীর মৃত্যুর সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে তাকে একনজর দেখতে বাসার সামনে ভিড় করতে থাকেন ভক্তরা। এ সময় তারা একে অপরকে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সংবাদ শুনে নরসিংদী থেকে ছুটে এসেছেন আবু তাহের নামের এক ভক্ত। তিনি বলেন, হুজুরকে এমন নৃশংসভাবে যারা হত্যা করেছে তারা ইসলামের শত্রু। ইসলামকে ধ্বংস করতেই তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার বলেন, হুজুরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যায় উচ্চমহলের হাত রয়েছে।

তিনি বলেন, হুজুর দেশের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলতেন। এজন্য একটি মহল হুজুরকে দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। তারাই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

ফারুকী ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস এজেন্সির মালিক নুরুল ইসলাম ফারুকীর দু’ঘরে রয়েছে সাত ছেলে মেয়ে। মৃত্যুর আগে পূর্ব রাজাবাজারের ১৭৪ নম্বর বাসার তৃতীয় তলায় দ্বিতীয় স্ত্রী রুবিনার সঙ্গে থাকতেন সে।

নিহতের ছেলে ফয়সাল ফারুকী বলেন, হজ্বে যাওয়ার কথা বলে সন্ধ্যার দিকে দু’জন লোক বাসায় ঢোকে। বাসার নিচে আরও কয়েকজন অপেক্ষা করছে বললে বাবা তাদের উপরে নিয়ে আসতে বলেন।

এরপর নিচ থেকে ৫/৬ জনে যুবক পিস্তল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে রুমে ঢোকে। রুমে ঢুকেই তারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সবাইকে বেঁধে ফেলে। এরপর গলা কেটে বাবাকে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

যারা আমার বাবাকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করে আমাদের এতিম করলো তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি  করে তিনি।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, খুনিরা হাত-পা বেঁধে গলা কেটে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আলামত সংগ্রহ শেষ হয়েছে। তদন্ত কাজও শুরু করেছি। কোনো একটি বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে সব বিষয়কেই আমলে নিয়ে আমরা কাজ করবো।

দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার করে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা, ২৮ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম,এসএইচ