ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি)দুর্নীতি, রাস্তা, ড্রেন মৃত্যুফাঁদ এবং ২ বছরে ৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ নিজেরাই তদন্তে নেমেয়ছে। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটির দুর্নীতি তদন্তের দায়িত্ব ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা খালিদ আহমেদকে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসির সচিব খান মোহাম্মদ রেজাউল করিমের দফতর থেকে জারি করা এক আদেশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা খালিদ আহমেদকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

জানা যায়, অফিস আদেশে 'গত ১১ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে' (নাম উল্লেখ করে) 'ডিসিসির বহুমাত্রিক দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করতে হবে' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অভিযোগ ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত করতে রিপোর্ট দাখিল করতে হবে।

তবে ওই জাতীয় দৈনিকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, ২০০৭ থেকে ২০০৯ অর্থবছরে ডিসিসি'র দুর্নীতির চিত্র। একই সঙ্গে সংসদীয় কমিটির শনাক্ত করা ডিএসসিসি'র (ঢাকা দক্ষিণ সিটির) হরেক রকম দুর্নীতির তথ্য রয়েছে।

আর দুর্নিতর মধ্যে ডিসিসির টায়ার ডোজার নং-১, টায়ার ডোজার নং-২-এর ক্রয়মূল্য ৩৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৩৪ টাকা। কিন্তু মেরামত কাজে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ ৮৮ হাজার ৯৫ টাকা। সংসদীয় কমিটির মন্তব্য।

ডিসিসির বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেনেজ অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের ৪ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৩৪১ টাকা ব্যয়ের সমর্থনে কোনো নথি উপস্থাপন করা হয়নি।

ডিসিসির বহুমাত্রিক দুর্নীতির চিত্র সম্পর্কে 'সংসদীয় কমিটির অভিযোগ ও তথ্য সম্পর্কে ডিএসসিসির প্রধান অডিট কর্মকর্তা নিরব রয়েছেন। তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি। তাও ওই দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে।

তবে ডিসিসির প্রধান অডিট কর্মকর্তা দাবি করেছেন,সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়গুলো সঠিকভাবে উপস্থাপন না করায় কিছু ক্ষেত্রে ভুল হিসাব এসেছে। অবকাঠামো উন্নয়নের নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার মতো ঘটনাকে সঠিকভাবে উপস্থাপন না করা হয়নি।

দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে, ডিসিসির দুর্নীতি নিয়ে একটি গল্প আছে তাও বলা হয়। একই স্থানে একবার পুকুর খোঁড়ার জন্য গম বরাদ্দ করা হয়, পরে আবার ওই পুকুর ভরাট করার জন্য গম বরাদ্দ করা হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, এছাড়া একটু ভারী বৃষ্টি হলেই ঢাকা মহানগরীর রাস্তা ও ড্রেনগুলো ময়লা পানিতে সয়লাব হয়ে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। দীর্ঘ দিনের দুর্নীতির কারণেই রাজধানী ক্রমান্বয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।
অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলছে সেবামূলক এপ্রতিষ্ঠানে বহুমাত্রিক ও বহুস্তর বিশিষ্ট দুর্নীতি।

এদিকে, ডিসিসির প্রতিষ্ঠানিক দুর্নীতি উদঘাটন এবং এ প্রতিষ্ঠানের সংঘবদ্ধ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দুদকের জোরালো ভুমিকা দেখা যায় না।

দুদক কর্মকর্তারা প্রথমে হাকডাক করে নথিপত্রসহ সংশ্লিষ্টদের তলব করেন। কিন্তু কিছুদিন দুদকের কর্মকর্তারা নিরব হয়ে যান। আবার বেশি সক্রিয় হলে,দুদকের ওই কর্মকর্তাকেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয় এমন নজির রয়েছে দুদকে।
একে