ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক ক্ষমতার বিষয়ে দেয়া রুল শুনানিতে ৫ অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো.মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো.আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন।

যাদেরকে এ পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা হলেন, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড.কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম, আজমালুল হোসেন কিউসি ও ব্যারিস্টার  রোকন উদ্দিন মাহমুদ।

এর আগে ২০০৯ সালের  ৮ এপ্রিল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারাসংশোধন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিভিন্ন বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ একটি রিট দায়েল করেন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন জনস্বার্থে এ রিটটি দায়ের করেন।

শুনানি করে ২০০৯ সালের ১৫ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক ক্ষমতা দেয়াকে কেন বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থী বলে ঘোষণা করা হবে মর্মে রুল জারি করেন।

পরে এটি শুনানি করে ২২ ফেব্রুয়ারি রোববার ও ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার এ রুলের শুনানি শেষ করে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৮ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আদালতে বাদীপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। অপরদিকে  রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

আদালত  থেক বেরিয়ে রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইনের ১৪৫ ও ১৪৭ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেন যেমন দখল নির্ধারণ, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান, দখল পুনরুদ্ধার, সম্পত্তি এ্যাটাসমেন্ট এবং রিসিভার নিয়োগ ইত্যাদি বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

মাসদার হোসেন মামলার আপীল বিভাগের রায় অনুসারে বিচার বিভাগ প্রশাসন হতে আলাদা হবার পরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। যেখানে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তা সত্ত্বেও ফৌজদারি আইনের ১৪৫ ও ১৪৭ ধারা অনুসারে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ক্ষমতা প্রদান করে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করা হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল ২০০৯ এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।

ওই সংশোধনীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিলে ফৌজদারি আইনের ১৪৫ ও ১৪৭ ধারায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচারকার্য পরিচালনা করার বিধান করা হয়েছে। যদিও ফৌজদারি আইনের ৪এ (২) (বি) ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা। ফৌজদারি আইনের ১০ ধারায় সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগের বিধান রয়েছে। সুতরাং বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে উল্লেখ করেন মনজিল মোরসেদ।

কেএইচ