উপমহাদেশের  প্রয়াত মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের স্মৃতিবিজড়িত পাবনার গোপালপুরের পৈতৃক বাড়িটি রক্ষা ও ‘সুচিত্রা স্মৃতি সংগ্রহশালা’ স্থাপনে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল (লিভটুআপিল) আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।
রোববার সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর ফলে জামায়াত ইসলামীর পরিচালিত ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্টের দখলমুক্ত করে বাড়িটিতে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা স্থাপনে আর কোনো বাধা রইল না বলে জানান অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।
আদালতে ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্টের পক্ষে  শুনানী করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যার্টনি জেনারেল মোরাদ রেজা।
১৯৫১ সালের মাঝামাঝি সময়ে সুচিত্রা সেনের বাবা পাবনা থেকে সপরিবারে কলকাতায় চলে যান। সে সময় জেলা প্রশাসন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য সুচিত্রা সেনের পৈত্রিক ভিটা গোপালপুর মৌজার এসএ ৯৯ খতিয়ানভুক্ত ৫৮৭ এসএ দাগের ০.২১২৫ একর বাড়ীটি রিক্যুইজিশন করেন। এরপর থেকে বাড়ীটিতে সরকারি বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বসবাস করতে থাকেন। এবং সর্বশেষ ছিলেন একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট।
জানা যায় ১৯৮৭ সালে এরশাদ সরকারের সময়ে স্থানীয় জামায়াত নেতা বাড়ীটি অর্পিত সম্পত্তিতে পরিণত করে  লিজ নিয়ে 'ইমাম গাজ্জালি ইন্সটিটিউট' নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। ২০০৯ সালের ১২ জুন পাবনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্টকে উচ্ছেদের নোটিশ দেন। ওই বছরের ২২ জুন এ নোটিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্ট।
২০১১ সালে এ রিটটি খারিজ করেন হাইকোর্ট। সেই সাথে আদালত নির্দেশ দেন বাড়িটি দখলমুক্ত করে সেখানে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা স্থাপনের। পরে গাজ্জালি ট্রাস্ট হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন। যা আপিল বিভাগ খারিজ করে দেন। এর ফলে সুচিত্রা সেনের বাড়িটিতে স্মৃতি সংগ্রহশালা স্থাপনে আর কোন বাধা রইলো না।
[b]ঢাকা, [/b][b]কেএ[/b],[b]৪ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ// এসএইচ[/b]