পেট্রল বোমা ও গান পাউডারসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য দ্বারা হামলার শিকার হয়ে আহত, নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাসমূহ সরকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করবে।
এ সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পুলিশের আইজিকে চিঠি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ চিঠি দেয়।
এছাড়া এ ধরনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাসমূহের বিচার ত্বরান্বিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রত্যেক বিভাগীয় কমিশনারকেও মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পেট্রল বোমা হামলার কয়েকটি মামলায় বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে আসামি করা হয়েছে।
এসব মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে সরকার ব্যাপকভাবে সমালোচনার মুখে পড়তে পারে এমন আশঙ্কার কারণে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
কিন্তু পেট্রল বোমায় নিরীহ ও নিরাপরাধ মানুষের অব্যাহত মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার শেষ পর্যন্ত এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এখন নিয়মানুযায়ী পুলিশ সদর দফতর থেকে এসব মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মামলাসমূহ দ্রুত বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হবে।
দ্রুত বিচারে মামলা স্থানান্তর করা হলে স্থানান্তর করার দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে।
পুলিশ চাইলে আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্তের সময় আরও ৭ দিন বাড়াতে পারবে। আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট জমা দেয়ার ৯০ দিনের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী দলের রাজনৈতিক আন্দোলন কর্মসূচি চলাকালে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনে পেট্রল বোমা হামলায় কমপক্ষে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন ২২ জন।
এছাড়া আহতদের মধ্যে এখনও ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে। পেট্রল বোমা হামলার ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক ও বড় ঘটনা ঘটে ২৮ অক্টোবর। এদিন ভোরে শাহবাগ এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রল বোমা হামলায় ১৮ জন দগ্ধ হন। এর মধ্যে দু’জন ছাত্রসহ চারজনের মৃত্যু হয়।
[b]ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি, (টাইমনিউজবিডি.কম)//ইএইচ/এফএ[/b]





