বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অমিত সাহার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বুয়েট শিক্ষার্থী অমিত সাহাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, মামলা দায়েরের সময় যারা আসামি থাকেন, তদন্তের পর তাদের মধ্য থেকে কেউ বাদ যেতে পারেন আবার কেউ যুক্ত হতে পারেন। অমিত সাহার নাম ইচ্ছা করে বাদ দেওয়া হয়নি। তদন্তের পরে যদি মনে হয় সে জড়িত, তাহলে তাকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

মঙ্গলবার (০৮ অক্টোবর) দুপুরে ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এদিকে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এরা হলেন- শামসুল আরেফিন রাফাত (২১), মনিরুজ্জামান মনির ও আকাশ হোসেন রাফাত। এই নিয়ে বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা মামলায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হলো।

এদিন রাজধানীর জিগাতলা এলাকা থেকে আরেফিনকে, ডেমরা এলাকা থেকে মনির এবং গাজীপুরের বাইপাইল থেকে আকাশকে গ্রেফতার করা হয়। আগামীকাল (বুধবার) তাদের আদালতে তোলা হবে।

এনিয়ে আবরার হত্যার ঘটনায় মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হলো।

গ্রেফতারদের মধ্যে ৭জনের নাম ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের তালিকাতেও আছে। এরা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, ইফতি মোশাররফ সকাল ও মুনতাসির আল জেমি। এই হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার (০৭ অক্টোবর) রাতে ১১ জনকে স্থায়ীভাবে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের কথা জানায় ছাত্রলীগ।

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের ফাঁসিসহ ৮ দফা দাবিতে মঙ্গলবার (০৮ অক্টোবর) দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আবরার ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইইই) বিভাগের লেভেল-২ এর টার্ম ১ এর ছাত্র ছিলেন। তিনি শের-ই বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে। কুষ্টিয়া জেলা স্কুলে তিনি স্কুলজীবন শেষ করে নটরডেম কলেজে পড়েন।

এমবি