রাজধানীর আশকোনায় নব্য জেএমপির আস্তানায় এখনো তিন জঙ্গি বিপুল পরিমান অস্ত্র, গ্রেনেড ও আত্মঘাতি হামলা চালানোর বিস্ফোরক নিয়ে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজ (শনিবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এমন তথ্য দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আসাদুজ্জামান মিঞা।

তিনি জানান, ওই তিন জঙ্গিকে জীবিত উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে বার বার আত্মসমর্পণের আহবান জানানো হচ্ছে। তবে, তিন জঙ্গি এখনো আত্মসমর্পণে রাজি হয়নি বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।

এদিকে, দুই শিশুসহ যেই দুই নারী জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছে তাদেরকে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) পুলিশের হেড কোয়ার্টারসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান আসাদুজ্জামান মিঞা। তাদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার আরো জানান, আস্তানায় অবস্থানকারী তিন জঙ্গির মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। বাকি দুজনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, যেহেতু তাদের কাছে বিপুল সংখ্যক গ্রেনেড ও বোমাসহ অস্ত্র-শস্ত্র রয়েছে, তাই বিষয়টি খুব সাবধানে মোকাবেলা করা হচ্ছে। সেকেন্ডের ব্যবধানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

তিনি এই অভিযানে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে অভিযানকালে ঘটনাস্থলে বেশি ভীড় না করে পুলিশ যখন যেই আপডেট তথ্য জানাবে সেটা প্রচারের অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, গত রাতে রাজধানীর দক্ষিণখানে হজ্জ ক্যাম্পের কাছে একটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়ে সেটি ঘিরে রাখে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

শুক্রবার দিনগত রাত ১২টার পর থেকেই আশকোনা হাজিক্যাম্পের কাছে তিনতলা ওই বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড টান্সন্যাশনাল ইউনিট (সিটি)।

শনিবার ভোরে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। তবে তারা সে আহ্বান নাকচ করে দিয়ে ‘ফাইট’ করার ঘোষণা দেয় বলে জানান পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটির প্রধান মনিরুল ইসলাম।

ইতিমধ্যে 'সূর্য বাড়ি' নামে ওই ভবনের অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আশপাশের বাড়ি থেকেও বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

কেবি