গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলা চালিয়ে বিদেশিদের হত্যার পর নব্য জেএমবির সমন্বয়ক তামিম চৌধুরী ও তার সহযোগীরা বারবার স্থান পরিবর্তন করলেও হামলা বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল। তামিমের নেতৃত্বে নতুন করে ঢাকার ধানমণ্ডি এলাকায় কোনো সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে বিদেশিদের ওপর আবারও হামলার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের।

এ ছাড়া ঢাকার আশপাশে বিদেশিরা অবস্থান করে, এমন কোনো কারখানায়ও হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। আর এসব হামলার মূল দায়িত্বে ছিল তামিমের দেহরক্ষী তাওসিফ হোসেন। তবে গত শনিবার নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে তামিম চৌধুরী, তার দুই দেহরক্ষী তাওসিফ হোসেন ও ফজলে রাবি্ব নিহত হওয়ার পর আপাতত সে হামলা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

গতকাল সোমবার পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার ছানোয়ার হোসেন বলেন, কল্যাণপুরে তামিমের ৯ সহযোগী নিহত হওয়ার পর তারা হামলা চালাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। একসঙ্গে এত জঙ্গি নিহত হওয়ার পরও নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেওয়া ও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে নতুন হামলার চেষ্টায় ছিল তারা।

গোয়েন্দা তৎপরতায় এসব তথ্য পাওয়ার পর তামিম চৌধুরীকে গ্রেফতারে টানা অভিযানের ফলে তারা হামলা পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তবে জঙ্গি সংগঠনটির আরও কয়েক দুর্ধর্ষ সদস্য এখনও আত্মগোপনে আছে। বিষয়টি মাথায় রেখেই অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।


কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের আরেক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানা থেকে নব্য জেএমবির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় হামলা চালানোর টার্গেট ছিল। এ জন্য নিজেদের ইউনিটগুলোর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করেও দেওয়া হয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কল্যাণপুর ও নারায়ণগঞ্জের আস্তানায় পুড়িয়ে দেওয়া নথি, ভেঙে ফেলা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনে নব্য জেএমবির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ছিল, যা তারা ধ্বংস করেছে।


ওই কর্মকর্তা বলেন, পুড়িয়ে ফেলা নথি ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়। তবে ভেঙে ফেলা ডিভাইসগুলো প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত করা সম্ভব। সে চেষ্টা চলছে।


জঙ্গি দমন ইউনিটের সূত্রগুলো বলছে, নব্য জেএমবির ন্যাশনাল অপারেশন কমান্ডার হিসেবে নুরুল ইসলাম মারজান দায়িত্ব পাওয়ার পর তামিম চৌধুরীর নেতৃত্বে হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় তারা হামলা চালিয়ে বিদেশিদের হত্যা করে। এর পরই সংগঠনটি শোলাকিয়ায় ঈদগাহ ময়দানে আরও বড় হামলার পরিকল্পনা করে। তবে পুলিশের আগাম তৎপরতায় তা আর সম্ভব হয়নি।


আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, হলি আর্টিসানে হামলার পর কমান্ডো অভিযানে পাঁচ দুর্ধর্ষ জঙ্গি নিহত হয়। এর পরই শোলাকিয়ায় হামলা চালাতে গিয়ে নিহত হয় আরেক জঙ্গি। এর ১৮ দিনের মাথায় কল্যাণপুরের অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। যাদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন ছিল আত্মঘাতী ইউনিটের সদস্য। এক মাসের মধ্যে অপারেশন ইউনিটে থাকা দুর্ধর্ষ ১৫ জঙ্গি নিহত হওয়ার পর দ্রুত নতুন হামলা চালাতে হিমশিম খায় জঙ্গি সংগঠনটি। এর পরই তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ও নিজেদের শক্তি জানান দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। সদস্যসংখ্যা বাড়াতে ঢাকার বাইরে থেকে সংগঠনের সদস্যদের ডেকে এনে নতুন আস্তানা গড়ার চেষ্টা চালায় তামিম চৌধুরী।

তবে গত ১১ আগস্ট কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড় এলাকা থেকে আতিকুর রহমান ওরফে আইটি আতিক, আবদুল করিম বুলবুল, আবুল কালাম আজাদ, মতিউর রহমান ও শাহিনুর রহমান হিমেল নামে পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতারের কারণে তাদের সে চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

 

এসএ