নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর পাঁচ খুনের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতারকৃত আসামী মাহফুজ ওরফে মোশারফ। বৃহস্পতিবার দুপুরের আগে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সাঈদুজ্জামান শরীফের আদালতে মাহফুজকে হাজির করা হয়। এরপর শুরু হয় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা।
এদিকে দুপুরের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আসামি মাহফুজ একাই পাঁচ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। মাথায় পুঁতো দিয়ে আঘাত করে একে একে সবাইকে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে সবাইকে শ্বাসরোধ করে।
পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকান্ডের বিষয়ে পুলিশের পাঁচটি টিম পৃথকভাবে তদন্ত করেছে। দুইজনকে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য নেয়া হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আসামী মাহফুজ কিভাবে পাঁচ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তার বিবরণ দিয়েছে।
পুলিশের কাছে মাহফুজ বলেছে, প্রথমে মোরশেদুল, এরপর তাছলিমা ও তার মেয়ে সুমাইয়া, পরে লামিয়া এবং সব শেষে শিশু শান্তকে হত্যা করেছে। ১৫ জানুয়ারি রাত তিনটা থেকে পরদিন ১৬ জানুয়ারি সকাল সাতটা পর্যন্ত সময়ে পাঁচ হত্যাকান্ড ঘটায়। মাহফুজ স্বীকার করেছে যে, লামিয়ার সাথে অনৈতিক সম্পর্কের জের ধরেই সবাইকে হত্যা করেছে।
মাহফুজ হচ্ছে মামলার বাদি শফিকুল ইসলামের বোনের ছেলে। মামলার এজাহারে বাদি হত্যাকান্ডের জন্য মাহফুজকে সন্দেহ করেছেন। শফিকুল ইসলামের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লামিয়াকে মাহফুজ কু-প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি লামিয়া প্রকাশ করে দিলে শফিকুল ইসলামের স্ত্রী তাছলিমা মাহফুজকে শাসন করেন। এর জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে বলে শফিকুল ইসলাম মামলার এজাহারে অভিযোগ করেন।
সোমবার (১৮ জানুয়ারি) মাহফুজকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত তাকে সাত দিনের পুলিশ রিমাণ্ডে পাঠান। রিমাণ্ডের চারদিনের মাথায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয় মাহফুজ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন সুইট বলেন, সাড়ে এগারোটার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সাঈদুজ্জামান শরিফের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া শুরু করে মাহফুজ। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
১৬ জানুয়ারি রাতে নগরীর দুই নং বাবুরাইলের প্রবাসী ইসমাইলের পাঁচতলা বাড়ির একতলার পূর্ব দিকের ফ্ল্যাট থেকে পাচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হচ্ছে তাছলিমা, তাছলিমা’র ছেলে শান্ত, মেয়ে সুমাইয়া, তাছলিমা’র ভাই মোরশেদুল, তাছলিমা’র জা লামিয়া।
এমএইচ





