এবার দুদকের আইন বিভাগের ডিজি (১৯৬০ সালে জম্ম) কামরুল হোসেন মোল্লাহকে মাত্র ১১ বছর বয়সেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অখ্যায়িত করে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দুর্নীতি দমন কশিন (দুদক)।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিজি কামরুল হোসেন মোল্লাহ মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদান সংক্রান্ত কমিশনের চিঠি পেয়েছেন বলে জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জেলা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা টানা ৪ বছর অধিক প্রেষণে দুদকের মহাপরিচালক পদে কর্মরত আছেন।
গত বছর এপ্রিলে সরকারের চার সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম-সচিবসহ প্রশাসন ক্যাডারের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগের অনুসন্ধানকালে দুদকের ডিজি কামরুল হোসেন মোল্লাহর বিরুদ্ধ্ওে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। ওই সময় দুদকের ৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং সনদ জালিয়াতির অনুসন্ধান শুরু হয়।
জানা যায়, গত বছর দুদক উপ পরিচালক কর্মকর্তা মো. জুলফিকার আলী ্ও সহকারি পরিচালক এসএম রফিকুল ইসলাম যৌর্থভাবে ২২ অক্টোবর থেকে টিমের দুদকের ৯ কর্মকর্তা ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেন।
অবশেষে গত ৯ জানুয়ারি টিম লিডার মো. জুলফিকার অলী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দুদক ডিজি কামরুল হোসেন মোল্লাহ মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ রেখে বাকী ৮ দুদক কর্মকর্তাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে চিহ্নিত করেছে।
তার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজি (আইন ও বিচার) কামরুল হোসেন মোল্লার মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিষয়টি নথিভুক্ত করার সুপারিশ করা যেতে পারে।
জানা যায়, দুদকের ৮ কর্মকর্তার বিষয়ে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে দুদক ডিজির প্রাসঙ্গিক তথ্যে বলা হয়, কামরুল হোসেন মোল্লার নাম মুক্তিবার্তায় (লাল বই) নাম নেই। তবে যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক ওঠে অনুসন্ধানকালে। সরকার নির্ধারিত ৪ ক্রাইটেরিয়ার গেজেটে মু্ক্তিবার্তায় নাম থাকার আবশ্যকতা উল্লেখ রয়েছে।
কিন্তু তাতে ‘লাল মুক্তিবার্তা’ বলে কোনো শব্দ নেই। অথচ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য-উপাত্ত চাওয়ার সময় ‘লাল মুক্তিবার্তা’ শব্দটি জুড়ে দেয়া হয়।
ফলে মন্ত্রণালয় থেকে জবাব আসে অনুসন্ধান কর্মকর্তার প্রশ্নের আলোকে। অর্থাৎ ‘লাল মু্িক্তবার্তা’য় নাম নেই-মর্মে জানানো হয় মন্ত্রণালয় থেকে। যাচাই প্রক্রিয়ার এ ধরণের ত্রুটির ফলে কামরুল হোসেন মোল্লার বিষয়ে ওঠা অভিযোগ ‘সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হয়নি’-মর্মে অভিযোগ নথিভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
দুদক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ৮ দুদক কর্মকর্তা এবার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা অর্থাৎ সনদ জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছেন। আর ওই ৮ জন হলেন; পরিচালক গোলাম ইয়াহিয়া, পরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়া , উপ-পরিচালক ঢালী আবুদস সামাদ, উপ-পরিচালক এস এম গোলাম মাওলা সিদ্দিকী ও সাবেক উপ-পরিচালক রঞ্জন কুমার মজুমদার, সহকারী পরিদর্শক আবদুস সোবহান, কোর্ট সহকারী ( পুলিশের এএসআই) নুরুল ইসলাম ও কোট সহকারী পুলিশের এ এসআই ইসহাক ফকির।
আরো জানা যায়, ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে দুদক পরিচালক গোলাম ইয়াহিয়া ২ বছর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করেন। এক বছর অতিরিক্ত চাকরি করেছেন সেই সঙ্গে আরও সুবিধা অনুযায়ী নিচ্ছেন।
গত ২ নভেম্বর ডিজি কামরুল হোসেন মোল্লাহ, পরিচালক গোলাম ইয়াহিয় স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যানের দফতরে।
এদিকে আরো অভিযোগ রয়েছে, দুদকে মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য কোটায় দুদকের ১২ কর্মকর্তার সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরির অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে।
আর ওই ১২ কর্মকর্তা বর্তমানে দুদকের প্রধান কার্যালয়, সমন্বিত জেলা কার্যালয় এবং বিভাগীয় কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত বলে জানা যায়।
গত কয়েকবছরে দুদকে প্রায় ৭২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারির বিভিন্ন পদে চাকরি হয়। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ নিয়োগ বিধি অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা- পোষ্য কোটায় চাকরি পেয়েছে। আর এ কোটায় চাকরি পেয়েছেন ১২ কর্মকর্তা।
চাকরি পাওয়া এসব কর্মকর্তাদের কেউ পিতা, কেউ দাদা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন-মর্মে রেকর্ডপত্র দাখিল করেন। দাখিলকৃত রেকর্ডে মুক্তিযোদ্ধা সনদের জাল কাগজপত্র ছিলো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য দুদকের ১২ কর্মকর্তারা হলেন, সহকারি পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান,ফারুক আহমেদ, মোঃ আতিকুল আলম, জুয়েল আহমেদ, মঈনুল হাসান, এহসানুল কামরান তানভীর, আতিকুর রহমান, মোঃ শাওন মিয়া, নাজমুল আহসান, উপ-সহকারি পরিচালক মাহফুজ ইকবাল, নিয়ামুল আহসান গাজী এবং মোঃ সাইদুজ্জামান
একে/এসএইচ





