সোনালি ব্যাংকের ৯টি শাখা থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকটির স্থানীয় এক্সপোর্ট শাখার ২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধানী কর্মকর্তা মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী সকাল ১০ টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় এক্সপোর্ট শাখার অফিসার মো. মোশাররফ হোসেন ও সিনিয়র অফিসার জাহাঙ্গীর হলালকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু ওই বাংকের নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন বিদেশে থাকায় তিনি আসেননি বলে জানান দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

এর আগে গত ১০ ও ১১ নভেম্বর সোনালি ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থায়ন বিভাগের (পরিদর্শন ও মনিটরিং সেল) সিনিয়র অফিসার খন্দকার আব্দুল ওয়াকিব, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার সুকুমার রায়, মো . জসিম উদ্দিন খান, মো. আনিসুজ্জামান, এক্সিকিউটিভ অফিসার বিপব ভূষণ বক্সি, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. মুনজুর রহমান এবং সহকারি জেনারেল ম্যানেজার মো. আসাদুর হককে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

অভিযোগ রয়েছে, সোনালী ব্যাংক হোটেল রূপসী বাংলা শাখা, আগারগাঁও শাখা, গুলশান শাখা, লোকাল (স্থানীয়) কার্যালয়, মতিঝিল বৈদেশিক বাণিজ্য কর্পোরেট শাখা, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কর্পোরেট শাখা, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখা, চট্টগ্রাম লালদীঘি কর্পোরেট শাখা এবং নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখার মাধ্যমে ভুয়া এলসি এবং ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। আর এ লোপাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা এবং একটি জালিয়াত চক্র ব্যাবসার নামে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ উত্তোলনের মাধ্যমে পুরো টাকা লোপাট করেছেন।

জানা যায়, গত বছর ২ ডিসেম্বর থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত দুদকের অনুসন্ধানী টিমের প্রধান মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের এমডি এন্ড সিইওর মাধ্যমে সংরক্ষিত রেকর্ড পত্রের সত্যায়িত কপি সংগ্রহ করেন।

২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিদর্শন প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি। সোনালী ব্যাংক চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ করপোরেট শাখার উপর সোনালী ব্যাংকের এডি শাখার ইন্সপেকশন সেল এবং এডি শাখার ইন্সপেকটশন এন্ড মনিটরিং ডিভিশনের ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি সংগ্রহ করে দুদক।

একে, জেএ