এবার ১২ জেলায় আধুনিক কারাগার নির্মাণ’ প্রকল্পের বরাদ্দ করা অর্থ লোপাটের অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


সম্পতি কমিশন দুদকের উপ-পরিচালক শেখ ফাইয়াজ আলমকে কারাগার নির্মাণ’ প্রকল্পের অর্থ লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, দেশের ১২ জেলায় আধুনিক কারাগার নির্মাণ’ প্রকল্পের বরাদ্দ করা অর্থ লোপাটের বিষয়টি 'সরকারের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ণ বিভাগ (আইএমইডি) প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে।

দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতর এবং মন্ত্রণালয় থেকে অভিযোগের প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করেছেন। একই সঙ্গে আইএমইডির প্রতিবেদন এবং কারাগার নির্মাণের দরপত্রসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন। আরো কিছু কাগজপত্র চেয়ে একাধিক দফতরে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানা যায়।

এদিকে আইএমইডি'র প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৬ সালে সরকার দেশের কারাগাগুলোর ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক মানসম্পন্ন করার জন্য ১২ জেলায় ৫ বছর মেয়াদী কারাগার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।

প্রকল্পগুলো হচ্ছে : রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, মাদারীপুর, নেত্রকোনা, গোপালগঞ্জ, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, শেরপুর, পিরোজপুর, নাটোর, ফেনী এবং নীলফামারী জেলা আধুনিক কারাগার নির্মাণ’ প্রকল্প।

জানা যায়, পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ যে, সরকারি প্রকল্প মূল্যায়ণ প্রতিষ্ঠান আইএমইডি প্রকল্পের নানা অনিয়ম এবং লোপাটের এ করুন চিত্র তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকারের কাছে উপস্থাপন করে। এরপর সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতির এই চিত্র প্রধানমন্ত্রীর দফতরে দাখিল করা হয়।

২০০১ সালে ১২ জেলা কারাগার নির্মাণ’ প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৫ বছর মেয়াদী প্রক্ল্প ১৫ বছর বছরেও শেষ হয়নি। আর এ সুযোগে প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ১৩৫ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১৮৩ কোটি টাকায় উন্নিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ২ বার প্রকল্পের নির্মাণ কাল সংশোধন করে ১০ বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

আইএমইডি'র প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আধুনিক কারাগার নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের উপাদান।

এরমধ্যে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যায়ে গোপালগঞ্জে কারাগার নির্মিত প্রকল্পের ভেতরে দুইতলা হাসপাতালের নিচতলা দেবে গেছে এবং ওই ভবনের দেয়ালে বড় ধরনের ফাঁটল সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া চার তলাবিশিষ্ট ওয়ার্ডারার্স ভবনের প্রতিটি ফ্লোরের প্লাস্টার, সিঁড়ির ওপরের দেয়াল পড়ে যাচ্ছে।

আরো অভিযোগ রয়েছে, রাজবাড়ীতে নির্মিত কারাগারের ৪ তলার ওয়ার্ডারার্স ব্যারাকের অধিকাংশ জানালার লক ও পুডিং খুলে পড়ায় কাচ ভেঙে গেছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে কয়েদিদের জন্য অভ্যন্তরীণ টয়লেট তৈরি করা হয়নি। পাখার বিল তুলে নিলেও পাখা লাগানো হয়নি।
একে