চট্টগ্রামের তালসরা দরবার শরীফ থেকে ২ কোটি লুটের ঘটনায় নিম্ন আদালতে দায়ের হওয়া র‌্যাব-৭’র সাবেক সিইও’র জুলফিকারের বিরুদ্ধে মামলা চলবে মর্মে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন।

আদালতে মূল মামলার বাদীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, ব্যারিস্টার মোহাম্মাদ এনাম। অপরদিকে জুলফিকার আলী মজুমদারের পক্ষে ছিলেন বিএম ইলিয়াস কচি। জুলফিকার আলী মজুমদার সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া র‌্যাব-৭ এর সাবেক সিইও।

আদালত থেকে বেরিয়ে আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা সাংবাদিকদের বলেন, জুলফিকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি বাতিলে একটি রুল বিচারাধীন ছিলো। সে রুলটি খারিজ হবার ফলে বিচারিক আদালতে এ মামলা চলতে আর বাধা নেই। তিনি বলেন, খারিজের মাধ্যমে রুলের সঙ্গে দেয়া আদালতের স্থগিতাদেশও উঠে গেলো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জুলফিকারের আইনজীবী বিএম ইলিয়াস কচি সাংবাদিকদের বলেন, আদালত মামলা বাতিলের রুল খারিজ করে দিয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মামলার বর্তমান পর‌্যায়ে শুনানির কোনো যুক্তি না থাকায় এ আমরা হাইকোর্টে মামলাটি পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত জানালে আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, তল্লাশির নামে চট্রগ্রামের তালসরা দরবারে ঢুকে ওই টাকা ডাকাতির অভিযোগে ২০১২ সালের ১৩ মার্চ এই মামলাটি দায়ের করা হয়। আনোয়ারা থানায় এই মামলা দায়ের করেন দরবারের পীরের গাড়ি চালক মো. ইদ্রিস।

চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুলফিকার আলী মজুমদার ছাড়া অপর ছয় আসামি হলেন- র‌্যাব-৭ এর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লে. শেখ মাহমুদুল হাসান, ডিএডি আবুল বাশার, এসআই তরুণ কুমার বসু, র‌্যাবের তিন সোর্স দিদারুল আলম ওরফে দিদার, আনোয়ার মিয়া ও মানব বড়ুয়া।

বাদী মামলায় অভিযোগ করেছিলেন ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর তালসরা দরবার শরিফে র‌্যাব সদস্যরা গিয়ে তল্লাশির নামে ২ কোটি ৭ হাজার টাকা লুট করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, “জুলফিকার আলী মজুমদারের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল তালসরা দরবার শরিফে অভিযান চালিয়ে দরবার শরিফে রাখা আলমারি ভেঙে দুই কোটি সাত হাজার টাকা নিয়ে যায়।”

“এছাড়া ওইদিন দরবার শরিফ থেকে মিয়ানমারের পাঁচ নাগরিককে র‌্যাব সদস্যরা আটক করে। তাদের থানায় হস্তান্তর করা হলেও টাকার বিষয়ে কোনো কিছুই উল্লেখ করেনি র‌্যাব”

মামলার অভিযোগে আরো জানা যায় দরবার শরিফের পক্ষ থেকে বিষয়টি থানায় লিখিতভাবে জানানো হলেও কেউ সে সময় মামলা করতে রাজি হয়নি।

ঘটনাটি পরে জানাজানি হলে র‌্যাব সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে টাকা লুটের ঘটনায় র‌্যাব সদস্যদের যুক্ত থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।”

অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ আসার পর তাদের স্ব স্ব বাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, যাদের মধ্যে র‌্যাব অধিনায়ক জুলফিকারও ছিলেন। পরে তিনি ঢাকায় গ্রেপ্তার হন। তবে তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

আনোয়ানা থানার পরিদর্শক আব্দুস সামাদ ২০১২ সালেই এ মামলার চার্জশিট হয়। অভিযুক্ত সাতজনের মধ্যে চারজন র‌্যাব-৭ এর সাবেক কর্মকর্তা, বাকি তিনজন এই বাহিনীর সোর্স।

কেএইচ