নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে অবশেষে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার স্বাক্ষর করা হলেও আজ রোববার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জসীম উদ্দিন হায়দার।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন আইন)-২০০৯-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী নূর হোসেনকে কাউন্সিলর পদ থেকে অপসারণ এবং পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
নূর হোসেন খুনের ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যান। পরে সেখানকার পুলিশ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে ওই দেশের আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের আদালতে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২-এর ধারা ৩৪ অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর সাজা হয়েছে। এই দুটি কারণ দেখিয়ে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।
এ ছাড়া ফৌজদারি মামলাজনিত কারণে নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর শাজাহান বাদলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ২ নাম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল নজরুল ইসলামসহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠা ছয়জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিন ১ মে আরো একজনের লাশ পাওয়া যায় নদীতে। অপহরণের পরপরই নজরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নাম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

সাত খুনের দুটি মামলায় এ পর্যন্ত র্যা বের ১৭ জন সদস্যসহ মোট ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে র্যা ব-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক মোহাম্মদ সাঈদ, উপ-অধিনায়ক মেজর আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার এম এম রানাসহ র্যাধবের ১৯ জন সদস্য রয়েছেন। বাকি ১১ জন মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ বা বেতনভুক্ত কর্মচারী। নূর হোসেন বর্তমানে কলকাতার একটি কারাগারে বন্দী।

এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে দুটি মামলা করা হয়। অভিযোগ আছে, নূর হোসেনের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে তার প্রতিপক্ষকে খুন করেছে র্যা্ব। নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এ মামলাটি তদন্ত করছে। জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক মামুনুর রশিদ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
তদন্ত দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এক ভাগে অপহরণ ও হত্যা। এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন র্যাটবের ১১ জন সদস্য। আর দ্বিতীয় ভাগে ছিল লাশ গুমের চেষ্টা। এখানে র্যা বের আটজন জড়িত ছিলেন। এর বাইরে ১৭ জন মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এর মধ্যে র্যা বের ১২ জন। বাকি পাঁচজন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ নাগরিক। তিন কর্মকর্তার মধ্যে এম এম রানা শুধু অপহরণের সময় ছিলেন বলে স্বীকারোক্তিতে বলেছেন। বাকি দুজন পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে ছিলেন বলে স্বীকারোক্তিতে বলেছেন।

কেবি





