৭১ সালে ৩০ এপ্রিল  আমার ভাইকে পাকিস্তানী আর্মিরা ঘর থেকে বের করে নেয়ার সময়  কয়েকজন বাঙ্গালীকে সাধারণ পোষাকে বাইরে দাড়িয়ে থাকতে দেখেছেন আমার কলেজের পাচক রতন দাস। দাড়িয়ে থাকা লোকদের মধ্যে আমাদের কলেজের ইসলামী ছাত্র সংগঠনের নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে তিনি চিনেছেন বলে জানিয়েছেন।
৭১ এ সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা এটি এফ আজহারল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের নবম সাক্ষী অবসর প্রাপ্ত সেবিকা শোভাকর তার জবানবন্দি পেশ করার সময়  এইসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীমের নেতৃত্বীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে তিনি তার জবানবন্দি পেশ করেন। সাক্ষীকে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউট সুলতান মাহমুদ সিমন ও তাপস বল।
সাক্ষীর জবানবন্দি পেশ করার পরে তাকে জেরা শুরু করেন আসামীপক্ষের  আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম  আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি পেশ করেন মহিলা সাক্ষী শোভা কর (৬২)। তিনি ভারতের  কলকাতার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ঠাকুর পুকুর থানার ৭৯,অরবিন্দ বসু নগর এলকায় বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি সেবিকার পেশা থেকে অবসর পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ৩০ এপ্রিল ঘটনার সময় আমি রংপুর কারমাইকেল কলেজে এইচএসসির ছাত্রী ছিলাম।  ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০-১১টার দিকে আমি আমার বৌদির ছোট বোন কানন বালাও অধ্যায়ণ করছিলেন। হঠাৎ কুকুরের ডাক শোনতে পাই। তখন আমাদের প্রতিবেশী অধ্যাপক জলিল সাহেবের দরজায় ধাক্কা-ধাক্কির শব্দ শোনতে পাই।  দেখি শুকুর নামে জলিল সাহেবের এক আত্নীয় দরজা খুলে দেন।

তিনি বলেন, দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে পাচঁ ছয়জন আর্মি অস্ত্রসহ বাসায় ঢুকে পড়ে। সেখান থেকে মুলি বাশের বেড়া টপকিয়ে তারা আমাদের বাসায় চলে আসে। তিনজন আর্মি আমাদের ঘরে ঢোকে আমাকে কানন বালাকে লাইনে দাড়িয়ে থাকতে বলে। দুই তিনজন আমার বড় ভাই চিত্ত রঞ্জন ও ছোট ভাই নিত্যরঞ্জন  রায়কেও আমাদের সঙ্গে দাড় করায়। পরে বড় ভাইকে পিঠ মোরা করে বেধে ফেলে। আর্মিরা আমা কানের দুল খুলে নেয়। পরে  আমার বড় ভাইকে ঘর থেকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বের করে নিয়ে বাহিরে গাড়িতে ওঠায়।

তিনি বলেন,সকাল বেলা কলেজের পাচক রতন দাস এসে জানায় রসায়নের শিক্ষক  কালাচাদ বাবু,তার স্ত্রী মঞ্জুসী এবং অপর শিক্ষক সুনীল বরণ চক্রবর্তীকেও ধরে নিয়ে গেছে। রতন দাস জানায় তাদের ধরে নেয়ার সময়ও ইসলামী ছাত্র সংগঠনের নেতা এটিএম আজহারুল  ইসলামকে চিনেছে।

তিনি বলেন,আমার দাদার ছাত্র সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি  দমদমা বিজ্রের নিচে তাদেরকে মাটিতে পুতে হত্যা করা হয়। পরে পাশের গ্রামের লোকজন এ মৃতদেহ দেখার পরে একটি গর্ত করে পাঁচজনকে একসঙ্গে  মাটি চাপা দেয়।

সেবিকা বলেন,পরে আমি জলিল নামে একজনের সহায়তায় পাশের গ্রামে দুই আড়াই মাস বসবাস করি। পরে ওই গ্রাম থেকে  বোরকা পরে ঢাকায় আসার পরে পিরোজপুরের হুলার হাটে চলে যাই। এর কয়েকদিন পরে আমরা ভারতে চলে যাই। ভারতে গিয়ে গোবরায় অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং ক্যাম্পে সেবিকার ট্রেনিং নেই।  
[b]ঢাকা, একেএ, ৮ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ[/b]