রাজধানীর মগবাজারে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃতরা।

তিন খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার ছয় আসামিকে শুক্রবার রাতে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। তবে একজন এখনও পলাতক রয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন: মারুফ হোসেন (২৬), আল আমিন (২৫), রুবেল মিয়া (২৫), শাফিন লস্কর (২৫), সাইফুল্লাহ সিয়াম (২৪) ও রমজান আলী (২০)।

র‌্যাবের হেডকোয়াটার্সে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং এর পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এ তথ্য জানান।

কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘আল-আমিন (২৫) কে শুক্রবার রাতে মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে মো. সাইফুল্লাহ সিয়াম (২৪) ও মো. রমজান আলীকে (২০) মতিঝিলের টিএন্ডটি কলোনির বস্তির একটি ঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ২টি পিস্তল ও ৬ রাউন্ড গুলিসহ আটক করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই রাতেই পৌনে একটার সময় মো. রুবেল মিয়া সানি (২৫), মো. মারুফ হোসেন (২৬), মো. শাফিন লস্করকে (২৫) একই বস্তির আরেকটি ঘর থেকে ৩টি চাপাতিসহ আটক করা হয়।’

খুনের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়া হলে রানুর আরেক ভাই কালাচান বাদী হয়ে রমনা থানায় স্থানীয় সন্ত্রাসী কালাবাবুসহ ১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে র‌্যাব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য তৎপর হয়।’

র‌্যাব-৩ এর গোয়েন্দা দল অনুসন্ধান চালিয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হন শাহ আলম, কালাবাবু ও জিসান গ্রুপের অন্যতম সদস্য মো. সাইফুল্লাহ সিয়াম ও আল-আমিন ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এর পরিপ্রেক্ষিতে কালাবাবু, সিয়াম ও আল-আমিনকে গ্রেফতারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হয়।

এর ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৩ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে প্রথমে আল-আমিনকে মুন্সিগঞ্জ থেকে এরপর অভিযান পরিচালনা করে এ ৬ জনকে আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট রাত ৮টার দিকে মগবাজার সোনালীবাগে চান বেকারির গলির একটি বাড়িতে ঢুকে আটজন দুর্বৃত্ত প্রকাশ্যে গুলি করে রানু আক্তার (৩০), বিল্লাল (২৮), মুন্নাকে (২৫) নিহত করে এবং গুলিবিদ্ধ হন নিহত রানুর ভাই হৃদয় (২২)।

নিহত রানুর বড় ভাই মো. শামীম ওরফে কালাচান। বিল্লাল কালাচানের বাড়ির ভাড়াটে, মুন্না ঘটনার দিন রাতে সোনালীবাগের ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন।

ওই ঘটনায় ২৯ আগস্ট রাতে রমনা থানায় মামলা করেন কালাচান। স্থানীয় সন্ত্রাসী শাহ আলম ওরফে কালা বাবুকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।

১৫ সেপ্টেম্বর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন কালা বাবু। মগবাজারের ওয়্যারলেস রেলক্রসিং এলাকার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রানুর স্বজনদের অভিযোগ, চাঁদা না পেয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী কালা বাবু এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, নিহত রানুর বড় ভাই কালাচান মগবাজার ওয়্যারলেস গেট রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক। কালাচানকেও সবাই সন্ত্রাসী হিসেবে জানে। রেলওয়ের জমির ওপর চার কক্ষের একটি টিনশেড বাড়ির দখল নিয়ে তাঁর সঙ্গে সন্ত্রাসী কালা বাবুর বিরোধ ছিল। এ কারণেই সহযোগীদের নিয়ে কালা বাবু এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

ঢাকা, জেইউ, ২০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম,এসএইচ