হাইকোর্ট এলাকার ভোটার মর্জিনা বেগম। তার আগের জাতীয় পরিচয়পত্রটি (এনআইডি) হারিয়ে গেছে। এখন নতুন করে তুলে জমা দিলেই পাবেন স্মার্টকার্ড। তাই করণীয় জানতে এসেছিলেন সেগুনবাগিচা হাই স্কুল স্মার্টকার্ড বিতরণ ক্যাম্পে। কিন্তু ক্যাম্পের অপারেটররা তার কাছে ২৮০ টাকা দাবি করেছেন। অথচ এ টাকা জমা দিতে হবে ব্যাংকে।

একই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন রহমত আলী। তার কাছে ২৬০ টাকা চাওয়া হয়েছে। এমন অনেকেরই অভিযোগ হারানো কার্ড উত্তোলনের জন্য টাকা, তারা নিজেদের কাছেই জমা দিতে বলছেন। এ নিয়ে হট্টগোল করেছেন অনেকে। অনেকেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকের ভাষ্য অনুযায়ী, এনআইডি কার্ড হারালে বা সংশোধন করতে হলে প্রথমে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয়। কিন্তু তারা নিজেরাই কেন টাকা চাচ্ছেন!

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইন অনুযায়ী, এনআইডি হারালে সাধারণ ২০০ টাকা, জরুরি হলে ৩০০ টাকা, দ্বিতীয়বার হারানো কার্ড উত্তোলনের জন্য সাধারণ ৩০০ টাকা, জরুরি হলে ৫০০ টাকা জমা দিতে হয়। এর যুক্ত হয় ভ্যাট এবং সার্ভিস চার্জ। যা বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংকসহ অন্য ব্যাংকেও টাকা জমা দেওয়া যায়।

এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ব্যাংকের টাকা জমা দেওয়ার চালান কপি বা রশিদসহ আবেদন করতে হয় থানা বা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অথবা ইসির এনআইডি শাখার মহাপরিচালক বরাবর।

এক্ষেত্রে যারা আইডি কার্ড হারিয়ে উত্তোলনের জন্য আসছেন, তাদের প্রথমবারের জন্য ২৫০ টাকার মতো ফি দিতে হবে। কিন্তু সেগুনবাগিচা ক্যাম্পের অপারেটররা ভোটার ভেদে ২৫০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা দাবি করছেন। যদিও তারা ব্যাংকেও যেতে বলছেন।

মর্জিনা বেগম বলেন, আমার কাছে প্রথমে ২৮০ টাকা চেয়েছেন একজন অপারেটর। যদিও তিনি আর এখন ডেস্কে নেই। পরবর্তীতে আবার বলেছেন চাইলে আপনি ব্যাংকে গিয়েও টাকা জমা দিতে পারেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকার ভোটার জয়নাল হক বলেন, আমি টাকা দেয়নি। তবে অনেকেই টাকা দিয়ে চলেও গেছেন।

এ বিষয়ে ক্যাম্পে অপারেটরদের টিম লিডার মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন বলেন, আমাদের কাছে নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন ভোটারদের কাছ থেকে টাকা জমা নিই। কেননা, ব্যাংকে গেলে তাদের অনেক সময় ব্যয় হয়। এক্ষেত্রে ভোটারদের সুবিধার্থেই সোমবার (১৭ অক্টোবর) এ সিস্টেম চালু করা হয়েছে।

কে এমন নির্দেশনা এনেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রমনা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবা মমতা হেনা বলেছেন- ভোটারদের দুটো পরামর্শ দেওয়ার জন্য। একটা হচ্ছে ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দেওয়া, অন্যটি হচ্ছে আমাদের কাছেই জমা দেওয়া।

কিন্তু অনেকেই ভুল বুঝতেছেন। আমাদের কাছে টাকা জমা দিলে আমরাই সেটা ইসির অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে দেবো।

এদিকে, এমন সিস্টেম চালু হয়েছে বলে সালাউদ্দিন দাবি করলেও ক্যাম্পের কোথাও কোনো লিখিত নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি সাঁটিয়ে বা টানিয়ে দেওয়া হয়নি। এছাড়া এ বিষয়ে অন্য কোনো সাধারণ বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়নি। চালানো হয়নি কোনো প্রচারণাও। এ বিষয়ে সালাউদ্দিন বলেন, এটা করা উচিত ছিল। তবে বিষয়টি সম্পর্কে থানা নির্বাচন কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে থানা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে সালাউদ্দিন বলেন, তিনি মিটিংয়ে আছেন, ক্যাম্পে নেই।

বিষয়টির বৈধতা সম্পর্কে জানতে ইসির এনআইডি শাখার মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দিনের মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

গত ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এরপর গত ৩ অক্টোবর থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে স্মার্টকার্ড বিতরণ শুরু করেছে ইসি।

ইতিমধ্যে ডিএসসিসি’র রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ড বিতরণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ড বিতরণ চলছে সেগুনবাগিচা হাইস্কুল ক্যাম্পে। আর ডিএনসিসি’র উত্তরা থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ড বিতরণ চলছে উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পে।


এমএনজে