আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের কোনো ধরণের যোগাযোগ আছে কিনা সে সম্পর্কে গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে তথ্য নেই। তবে ত্রিশালের মতো ঘটনার পর আইএস এর সাথে যোগাযোগের বিষয়টি জোড়ালোভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকা থেকে হিফজুর রহমান (২২) নামে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কথিত এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তবে প্রকৃতপক্ষে আইএসের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিনা এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কোন তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মলনে যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে পুরানা পল্টন থেকে কথিত আইএসআইএস এর সদস্য হিফজুর রহমানকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে পুরানা পল্টন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
হিফজুরকে গ্রেফতারের বিষয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, অনলাইনে মনিটরিংয়ে হিফজুরের বিষয়টি গোয়েন্দা পুলিশের নজরে আসে। কয়েকদিন মনিটরিং করার পর সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী থেকে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গীদের জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান মনিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আইএস এর সাথে উগ্রবাদে বিশ্বাসী বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অথবা সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে কিনা সে সম্পর্কে কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে ত্রিশালের ঘটনার পর অভিযানে জঙ্গিরা নিস্ক্রীয় হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আল কায়েদার আইমান আল জাওয়াহিরির এক ভিডিও বার্তা প্রচারিত হবার পর আবার সক্রিয় হবার পরিকল্পনা করে জঙ্গিরা। তবে গোয়েন্দা নজরদারি জোরালো ভাবে বাড়ানোর ফলে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের কারনে বাংলাদেশে জঙ্গীরা দেশে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।’
এক প্রশ্নোর জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কোন জঙ্গী ইরাক এবং সিরিয়ায় জিহাদে অংশগ্রহণ করেছে এমন কোন তথ্য পুলিশের কাছে নেই বলেও জানান তিনি। তবে বাংলাদেশী জন্মোদ্ভূত অনেকে সেখানে যুদ্ধে গিয়ে মারা গেছে বলে খবরে জানা গেছে।
মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত হিফজুর ‘অনলাইনে উগ্র মতবাদ প্রচার করছিল। সে ‘আইএসআইএস বাংলাদেশ’ নামে একটি পেইজের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে।
ওই পেইজে সে দাবি করেছে, সে আইএসের একজন সদস্য। তবে আইএসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আছে এমন কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই।’
তিনি ফেইজবুক পেইজ হিফজুরকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন, ‘হিফজুর উগ্র মতবাদের বিশ্বাসী। বলতে গেলে অতি উগ্রবাদী মতাদর্শের অনুসারী। জিজ্ঞাসাবাদে সে আমাদের জানায়, বাংলাদেশ থেকে যারা নিরিয়া ও ইরাকে জিহাদে
অংশ নিতে চায় তাদের সংঘটিত করার চেষ্টা করছে সে। এক্ষেত্রে যারা উগ্র মতবাদে বিশ্বাসী তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের কাজটিও সে করছিল।’
তিনি বলেন, ‘সে প্রকৃতপক্ষে জঙ্গী কিনা বা ব্যক্তিগতভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে অনলাইনে কার্যক্রম চালিয়েছে কিনা জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে।’
তিনি আরও জানান, হিফজুর পুলিশকে জানিয়েছে, সে জামায়া’তে মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। আইএসের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানাতে না পারলেও প্রতিবেশী দেশের জঙ্গীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্বের কোন তথ্য নেই দাবি করে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আইএসআইএস বাংলাদেশ নামে কোন সংগঠনের অস্তিত্ব আছে কিনা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।’
ঢাকা, জেইউ, ২৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর





