বাংলাদেশরেলওয়ে চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ইউসুফ আলী মৃধাকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ৩২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)।

দুদকের সহকারি পরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা রেলের নিয়োগ দুর্নীতির এ মামলাগুলো তদন্ত করেছেন।

জানা যায়, কমিশনের দায়ের করা ৫ মামলায়ই অব্যাহতি পেলেন সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ইউসুফ আলী মৃধা। ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানায় ওই মামলাটি (মামলা নং-৩৩) দায়ের করা হয়েছিল।

সম্প্রতি কমিশন এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ১৬৬/ ১৬৭/ ৪২০/৪৭৭/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয়।

দুদকের চার্জশিট ভুক্ত ৩২ আসামির মধ্যে রয়েছেন,বাংলাদেশ রেলওয়ের সিআরবি চট্টগ্রামের সিনিয়র ওয়েল ফেয়ার অফিসার ( বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) গোলাম কিবরিয়া, অতিরিক্ত প্রধান (যান্ত্রিক) প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিজিপি ওয়াই লোকো সেডের সহকারি লোকো মাস্টার (এএলএম গ্রেড-২) মো. গোলাম রহমান, ঢাকা লোকে সেডের সহকারি লোকো মাস্টার নাজমুল হোসেন, কুলাউড়া সেডের সহকারি লোকে মাস্টার শ্রী রতন মলি সিংহ, দেওয়ানগঞ্জের সহকারি লোকো মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহে কেওয়াটবালীর সহকারি লোকো মাস্টার মিজানুর রহমান, লাকসাম চট্টগ্রামের সহকারি লোকো মাস্টার মো. মুহিদ, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী লোকো সেডের মাস্টার মো. দিদার হোসেন, সহকারি লোকো মাস্টার মো. জসিম উদ্দিন, রেহেনা আবেদীন, খুরশিদা আকতার, কুলসুম আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, রাজশাহী কট্রোল অফিসের সহকারি লোকো মাস্টার জিএম শাহ আলম, দিনাজপুর পার্বতীপুর লোকো মাস্টার নাজরিন আক্তার, সহকারি লোকো মাস্টার মো. শাহীন রেজা আরিফ, পাবনা ইশ্বরদী সহকারি লোকো মাস্টার আবু মো. জুবায়ের, লাল মনিরহাট লোকো সেডের সহকারি লোকো মাস্টার আব্দুল কাদের, খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) মো. আব্দুল ওয়াদুদ ভূঞা, হিসাব বিজ্ঞানের প্রভাষক জহি রুল ইসলাম ও একই প্রতিষ্ঠানের পদার্থ বিজ্ঞানের প্রভাষক তপন কুমার দাস।

অভিযোগ রয়েছে, লোকো মাস্টার ও সহকারি লোকো মাস্টার নিয়োগের জন্য বিভাগীয় প্রধানের মতামত ছাড়াই ৫ সদস্যের কমিটি করা হয়। ওই কমিটি জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ চাকরি প্রার্থীদের তালিকায় না রেখে সব জেলার প্রার্থীদের একত্রে তালিকা তৈরি করে। ফলে ২৮ জেলা থেকে ৩২ জন প্রার্থী কম নেওয়া হয়। আর নিয়ম বহির্ভূতভাবে ১৯টি জেলা থেকে ওই ৩২ পদ পূরণ করা হয়।

চাকরি প্রার্থীদের উত্তরপত্রে মূল্যায়নকারী শিক্ষকের সই ছিল না। অকৃতকার্য প্রার্থীর উত্তরপত্রে কাটাকাটি করে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১০ নম্বর গ্রেস দিয়ে ৩৯ জনের মধ্যে ২৪ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় পাস দেখিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। একইভাবে ৩৮ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় কম নম্বর দিয়ে বাদ দেওয়া হয়।

দুদকের তদন্তে এসব অভিযোগের প্রামান মিলছে। আর অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ অনিয়ম করেছে।

এর আগে ২০১৩ সালের মাঝামাঝিতে দুদকের আরও ৪ মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পান জিএম ইউসুফ আলী মৃধা। এর মধ্যে ২০১৩ সালের ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মামলা নং-৩৪, ৩৫, ৩৬) এবং ১৯ অক্টোবর একই থানার মামলা নং-১৯ থেকে অব্যাহতি পান তিনি।

প্রতিটি চার্জশিটে ইউসুফ আলী মৃধা সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। তিনি শুধুমাত্র রুটিন ওয়ার্ক হিসেবেঅনুমোদন করেন।

একে/এসএইচ