আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ি এবং ড্যাটকো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুসা বিন শমসেরের বিপুল সম্পদের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ সোমবার দুদকের নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। একই সঙ্গে দুদকের সিনিয়র উপ পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, তিনি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি ইউনিয়নের কাজীকান্দা-হিয়াবলদী গ্রামের বাসন্দিা। ১৯৭১ সালে তার ভুমিকা নিয়ে ওই গ্রামের লোকজন তাকে চেনে নুলা মুসা নামে ডাকেন ।তার এ নামকরনটি মুক্তিযুদ্ধে তার ঘৃণ্য ভূমিকার পর-পরই হয়।
বর্তমানে ড. মুসা বিন শমসেরের ৭ বিলিয়ন ডলারের একাউন্ট ফ্রিজ করেছিল সুইস ব্যাংক। অনিয়মিত লেনদেনের অভিযোগ এনে এ হিসাব জব্দ করে সুইস কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তার লন্ডনস্থ আইনজীবী।
তিনি একটি কলম বানিয়ে দিয়েছেন ৭ হাজার ২৫০ টি ছোট ছোট হীরা দিয়ে। এ কলম দিয়েই মুসা সব গুরুত্বপূর্ণ দলিল দস্তাবেজ,চুক্তি,ইত্যাদি স্বাক্ষর করে থাকে। তার হীরক খচিত জুতো রয়েছে অসংখ্য।
এছাড়া,২০১০ সালে ২০ ডিসেম্বর দৈনিক মানবজমিনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে সুইস ব্যাংকে আটকা ৫১ হাজার কোটি টাকা ফিরিয়ে আনতে প্রিন্স মুসার লবিং।
১৯৯৭ সালে ড. মুসা বিন শমসের তার ইউরোপিয়ান সদর দপ্তর হিসেবে একবার আয়ারল্যান্ডের কালকিনি দুর্গ কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সফল হননি।
মুসা বর্তমান বাস করছেন গুলশানে অবস্থিত তার প্রাসাদোপম বাড়িতে। এ বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই পার্টি থাকে। সেখানে সবসময় তার দেশি বেদেশি হাইপ্রোফাইল মেহমান উপস্থিত থাকেন।
জানা যায়, ড. মুসা ১৯৯৪ সালে সর্বপ্রথম তার বন্ধু ব্রিটেনের বিরোধী দলীয় নেতা (পরে প্রধানমন্ত্রী) টনিব্লেয়ারের নির্বাচনী ফান্ডে ৫০ লাখ পাউন্ড অনুদান দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বিশ্ব দরবারে আলোচনায় উঠে আসেন।
একজন বিদেশী নাগরিক হওয়ায় টনিব্লেয়ার অবশ্য সে অনুদান গ্রহণ করেননি। তার পরে নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে এ ব্যবসায়ী মাঝে মধ্যেই বিশ্ব মিডিয়ার আলোচনায় স্থান পান।
জানা যায়, মুসা বিন শমসের বাংলাদেশের বিজনেস মোগল নামে পরিচিত। তাকে বলা হয় প্রিন্স মুসা। বিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিন অনুযায়ী বর্তমানে তিনিই বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।
এদিকে চলতি বছরের জুন মাসে বিজনেস এশিয়া নামের একটি ম্যাগাজিনে মুসা বিন শমসেরকে নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই ম্যাগাজিনে এ ব্যবসায়ীর জবানিতে তার জীবনযাত্রা, আর্থিক সামর্থ্য ইত্যাদি নানা বিষয় উল্লেখ করা হয়। ম্যাগাজিনে তার সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয় ৭ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৫৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।
দুদকের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, প্রতিবেদনে মুসা বিন শমসের আয়, আয়ের উৎস, জীবনযাপনের কথা যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে, সেটা দুদকের অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তাই এই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
একে/এসএইচ





