নওগাঁর আত্রাইয়ে গতকাল রোববার দুপুরে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের মো: সৌখিন মন্ডলের কন্যা মোছা: শাহানাজ খাতুনের (২২) সাথে একই গ্রামের মৃত আব্দুস ছালামের পুত্র মো: সাদেকুল আলম খাঁনের (সাজ্জাদ) (২৫) সাথে প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে হয়।
পারিবারিক কলহের জের ধরে এক বছর আগে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে সাজ্জাদ আরেকটি বিয়ে করে। কিন্তু তারপরও সে শাহানাজকে আবার বিয়ের জন্য বিভিন্নভাবে প্রলোভন দিতে থাকে। কিন্তু শাহানাজ তার কথায় কোনো সাড়া না দিয়ে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করে এবং নিজের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আবার আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশুনা করতে থাকে।
গতকাল রোববার শাহনাজ কলেজ শেষে প্রাইভেটের উদ্দেশে রওনা হলে উপজেলার বাইপাস রোডের তিনমাথা নামক স্থানে মহিলা মাদরাসা সংলগ্ন স্থানে সাজ্জাদ তার গতি রোধ করে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারপর শাহনাজ অগ্নিদগ্ধ শরীর নিয়ে বাঁচার তাগিদে আত্রাই নদীতে লাফিয়ে পড়ে।
তার সাথে থাকা দুই বান্ধবী উম্মে হাবিবা ও তাছলিমা আক্তার স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় শাহনাজকে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠান।
এদিকে লম্পট সাজ্জাদ জনতার হাত থেকে বাঁচতে আত্রাই থানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করে। এবিষয়ে আত্রাই থানা তদন্ত কর্মকর্তা ছামসুল আলম জানান, মেয়েটির বাবা মো: সৌখিন মন্ডল বাদি হয়ে আত্রাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আত্মসমর্পণকারী সাজ্জাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নওগাঁ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এসএ/টাইম





