এবার দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) উপর অস্বাভাবিক ক্ষমতা দেখাতে গিয়ে মহা বিপদে পড়েছেন এনা প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান ও রাজশাহী-৪ এর সরকার দলীয় এমপি এনামুল হক।
সরকারের পুরো ক্ষমতা ব্যবহার করতে গিয়ে বাঘ (দুদক) ও কুমিরের (এনবিআর) মাঝ খানে পড়েছেন এমপি এনামুল হক।এবার কোন দিকে যাবেন তিনি তা নিয়েও চলছে নানা হিসেব নিকেশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দুদকের উপ-পরিচালক যতন কুমার রায়ের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে ২০৭ কোটি টাকা এবং তার স্ত্রী তহুরা হকের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা তথ্য গোপন এবং অবৈধ ( জ্ঞাত আয় বহির্ভুত) সম্পদের কথা রয়েছে।
একই সঙ্গে এমপি এনামুলের কোম্পানীর নীট প্রফিট আফটার ট্যাক্স হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা।কিন্তু তিনি সরকারকে ইনকাম ট্যাক্স (আয়কর) দিয়েছেন মাত্র ৮৭ লক্ষ টাকার উপর।অর্থাৎ তিনি সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন ৮৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার।
ফলে এমপি এনামুল হকে অবশ্যই এনা প্রপার্টিজের ৮৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার উপর নির্ধারিত পারসেন্ট মোতাবেক প্রায় ২৫ কোটি টাকা ট্যাক্স হিসেবে পরিশোধ করতে হবে।সেই সঙ্গে সাজাও ভোগ করার বিধান রয়েছে।
অপর দিকে এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে ২০৭ কোটি টাকা এবং তার স্ত্রী তহুরা হকের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের মামলা করার বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে।তবে মামলা দায়ের হলে এনামুল হক এবং তার স্ত্রীর সাজার বিষয়টি চলে আসে।
এ পরিস্থিতিতে দুদক ইচ্ছে করলেও তাকে দুর্নীতি অবৈধ সম্পদ ও ট্যাক্স ফাঁকির বিষয়টি গোপন রেখে ‘বাংলা ওয়াশ করে’ সাফাই গেয়ে ফ্রেস সার্টিফিকেট দিতে পাচ্ছে না।
কারণ গত ১০ সেপ্টেম্বর এমপি এনামুল হকের আয়কর আইনজীবী কাঞ্চন দাস মোবাইলে (নম্বর ০১৬৭৭০৭২১১১) থেকে দুদক কর্মকর্তা যতন কুমার রায়ের মোবাইলে (নম্বর-০১৬৮৭৭১১২৭৯) ‘হাওয়া করে’ ফেলার হুমকি দেন।আর ওই হুমকিতে বলা হয় এমপি এনামুল হকে কোম্পানি এবং ব্যক্তিগত সম্পদ আলাদা করে দেখতে হবে।
তাদের কথা মতো কাজ না করলে হাওয়া করে ফেলা হবে।দুদকের উপরের সব স্যার ম্যানেজ হয়েছেন, এখন শুধু তদন্ত (অনুসন্ধানী) কর্মকর্তা যতন কুমার রায় ম্যানেজ হলেই হবে।
দুদক কর্মকর্তা যতন কুমার রায় এ হুমকির পর ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রমনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-৭৭৭) করেন।
তিনি সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেন, এনা প্রপার্টিজের অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ‘দ্য প্রিপারেশন অব দিস ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টস ইজ দ্য রেসপন্সিবিলিটি অব দ্য কোম্পানিস ম্যানেজমেন্ট’।এ ক্ষেত্রে এনামুল হক সাহেবদের দায়-দায়িত্ব অবশ্যই রয়েছে।আলাদা করার কোনো সুযোগ নেই।
এনামুল হকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাঞ্চন দাস তাকে হুমকির স্বরে বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারের উপর মহল এবং কমিশন (দুদক) এনামুল সাহেবের পক্ষে।শুধু আপনি তার পক্ষে রিপোর্ট দিলেই হয়। এমপি সাহেব নির্দেশ দিয়েছেন, আপনার (দুদক) প্রতিবেদনে যেন কোম্পানি ও ব্যক্তিকে এক করে দেখানো না হয়।
তখন দুদক কর্মকর্তা যতন কুমার রায় মোবাইলে জবাব দেন, এনা প্রপাটিজের নিজস্ব অডিটেই নীট প্রফিট আফটার ট্যাক্স হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা বলা আছে।কিন্তু আপনারা আয়কর দিয়েছেন মাত্র ৮৭ লক্ষ টাকার উপর।
সাধারণ ডায়রীতে আরো বলা হয়, এর আগেও তাকে হাইজ্যাক করার ফাঁদ সৃষ্টি করা হয়েছিলো।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠার পর কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।এর আগে আরেকজন উপ-পরিচালককে হত্যার হুমকি দেয়া হলেও ওই বিষয়ে কোনো জিডি হয়নি।
এদিকে গত ৮ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক রতন কুমার রায় এমপি এনামুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।ওই দুদক কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের কাছে দুদকে চ্যালেঞ্জ করেছে এমপি এনামুল হক।
তিনি দাপটের সঙ্গে বলেন, তার সম্পদ বেড়েছে এতে দোষের কি।তিনি ব্যবসা করেন, তাই সম্পদ বেড়েছে।দুদক তার কিছুই করতে পারবে না।
একে/এসএইচ





