যাত্রাবাড়ী এলাকার মো. রফিকুল ইসলাম রুবেলকে অপহরণের পর হত্যা করে অপহরণকারীরা। অপহরণকারীরা তাকে ধারালো বটি দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে ব্যাগে ভরে পিকআপে করে ঢাকা থেকে নেত্রকোনা জেলায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানালেন ওয়ারী জোনের ডিসি ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার দুপুরে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘রুবেলকে অপহরণ ও হত্যায় জড়িত তিনজনকে বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিরা রুবেলকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।’
তিনি জানান, রুবেল নিখোঁজ হলে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্তের চেষ্টা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনায় সম্পৃক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন—মোজাম্মেল হক, আঁখি আকতার ঝুমা ও জাকিরুল। মোজাম্মেল ও ঝুমা স্বামী-স্ত্রী। অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের পর পুলিশ জানতে পারে কীভাবে রুবেলকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ডিসি ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, রুবেলের পূর্বপরিচিত ছিলেন ঝুমা। ২১ জুলাই ঝুমাদের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন রুবেল। রুবেল সদ্য দুবাই থেকে বাংলাদেশে আসেন। তারপর ঝুমাদের বাসায় রুবেলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। প্রথমে ঝুমা রুবেলের মাথায় পাটাপুতা দিয়ে আঘাত করে। এরপর গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়। ঝুমাকে এ কাজে সহায়তা করেন তার স্বামী মোজাম্মেল হক।
রুবেলের লাশ কয়েক টুকরো করে একটি ব্যাগে ভরে রাখা হয়। এ সময় রুবেলের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের চেইন, এক জোড়া কানের দুল, একটি আংটি নিয়ে যায় আসামিরা। নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকাও নিহতের কাছ থেকে নিয়ে যায়। লাশ গুম করার জন্য পরদিন সকালে একটি পিকআপ ভাড়া করে বাড়ির অন্য মালামালসহ আসামিদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ থানায় গভীর রাতে পৌঁছায়। সেখানে মোজাম্মেলের গ্রামের বাড়ির ধানক্ষেতের পাশে পরিত্যক্ত জায়গায় লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন আসামিরা। পুলিশ তদন্তে নেমে ভিকটিমের লাশ আসামিদের গ্রামের বাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার করে ২ আগস্ট।
এদিকে সোমবার আসামি মোজাম্মেল হককে সিলেটের কোতোয়ালি থানার এক আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার তথ্যানুসারে বাকি দু’জনকে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসবাদ করা হবে।
গ্রেফতারদের কাছ থেকে অলঙ্কারগুলো জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যায় ব্যবহৃত পাটাপুতা, দা, ট্যাংক জব্দ করা হয়েছে।
রুবেল ২১ জুলাই যাত্রাবাড়ী থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে তার পরিবার। এরপর তার স্ত্রী পপি বাদী হয়ে অপহরণ মামলা করেন।





