মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার, আব্দুল লতিফ ও খান আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ওই তিনজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা (ফরমাল চার্জ) অভিযোগ আমলে নেয়।

একই সঙ্গে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

অভিযোগ আমলে নেয়ার পরে সিরাজ মাস্টারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী আবুল আসাদকে নিয়োগ দিয়েছেন।অন্য এক আদেশে ট্রাইব্যুনাল আব্দুল লতিফ তালুকদারের পক্ষে করা জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।

তার আগে গতকাল রোববার ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কায্যলয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউটর সায়্যেদুল হক সুমন ও শেখ মুশফিক কবির।

পরে প্রসিকিউটর সুমন সাংবাদিকদের বলেন, বাগের হাটের এই তিন রাজাকারের বিরুদ্ধে একাত্তর সালে হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠ ও ধর্মান্তরিনসহ ৯টি ভলিয়মে ৫ খণ্ডে কেস ডায়েরী করে অভিযোগ দাখিল করেছি।

এর মধ্যে সিরাজ মাস্টারের বিরুদ্ধে ৬টি এবং আব্দুল লতিফ ও খান আকরামের বিরুদ্ধে ৪টি করে অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট এ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা।

এদের বিরুদ্ধে ৯টি খন্ডে মোট ৮শ ৪৪ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়েছে।এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ৬৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য লিপিব্ধ করা হয়েছে বলেও জানায় তদন্ত সংস্থা।

গত ২০ জুলাই আসামি সিরাজ মাস্টারকে বাগেরহাটের কচুয়ায় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শাখারীকাঠি বাজারে গণহত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িতে অগ্নিসংযোসহ ৬টি অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা গ্রামে তার চাচা শ্বশুর মৃত মোসলেম পাইকের পরিত্যক্ত খুপড়ি ঘর থেকে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক ৩ আসামির সকলকেই পুলিশ কচুয়া, রাজশাহী ও বাগেরহাট সদর থেকে আটক করে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্ত দল দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিরাজ মাস্টার, খান আকরাম হোসেন ও আব্দুল লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করে।

গত ১০ জুন ট্রাইব্যুনাল-১ এই ৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে কচুয়া থানা পুলিশ পরের দিন ১১ জুন আসামি আঃ লতিফ তালুকদারকে গ্রেফতার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করে।

এরপর গত ১৯ জুন অপর পলাতক আসামি আকরাম হোসেন খানকে রাজশাহী থেকে মোড়েলগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সোপর্দ করে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কচুয়ার শাখারীকাঠি বাজারে ৪২ জনকে গণহত্যা করা হয় তার মধ্যে রঘুদত্তকাঠি গ্রামের শহীদ জিতেন্দ্র নাথ দাসের ছেলে নিমাই চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ২০০৯ সালে কচুয়া থানায় সিরাজ মাস্টারসহ ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

ঢাকা, কেএ, ১৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর