রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন না মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। বরং, বিচারিক প্রক্রিয়া ও রায়ের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি লিখবেন তিনি।
বুধবার কামারুজ্জামানের পরিবারের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে কামারুজ্জামানের ছেলে হাসান ইকবাল জানিয়েছেন, তার বাবা আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবেন কি না এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’
কারা সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় কামারুজ্জামানকে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ পিটিশন) খারিজ করে আপিল বিভাগের দেয়া রায়ের কপি পড়ে শোনানো হয়।
এসময় কারা কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তার সিদ্ধান্ত জানাবেন। এ সময় তার কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনপত্রটি দেয়া হয়।
কামারুজ্জামানের আইনজীবী মো. শিশির মনির জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কামারুজ্জামানের সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করবেন। তাদের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ এ অনুমতি দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই সকালে তার আইনজীবীরা সাক্ষাতের জন্য কারাগারে গেছেন।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয়া রায়ের কপিতে বুধবার সকালে স্বাক্ষর করেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিচারপতিরা।
বিকাল ৪টা ৫২ মিনিটে রায়ের কপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেয়া হয়। সেখানে ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা রায়ের কপিতে স্বাক্ষর করেন।
এরপর বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আফতাবুজ্জামান রায়ের কপি নিয়ে ৫টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে কারা কর্তৃপক্ষ কামারুজ্জামানকে রায় পড়ে শোনায়।
উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ আবেদন করেন কামারুজ্জামান। এক মাস পর গত রোববার কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার তা খারিজ করে দেন।
২০১০ সালের ১৩ জুলাই কামারুজ্জামানকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে আটক করে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। একই বছর ২ আগস্ট তাকে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। পরে ওই বছরের ৬ জুন কামারুজ্জামান ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
ওই আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩ নভেম্বর তৎকালীন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ও বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
এরপর চলতি বছর আপিলের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন। তবে কামারুজ্জামান আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে স্থগিত হয়ে যায় মৃত্যু পরোয়ানার কার্যকারিতা।
গত ৫ মার্চ কামারুজ্জামান আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন করেন। রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে গত সোমবার সকালে তা খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
এমকে





