খুলনায় ফাঁদ পেতে চাঁদাবাজির অভিযোগে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) নিরালা ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সোহেল রানাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা সদর থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়।
এর আগে সোমবার রাতভর অভিযান চালিয়ে সদর থানা পুলিশ উল্লিখিত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে এসআই সোহেল রানা অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রামজান আলী ও রফিকুল ইসলাম নামে দুই ব্যক্তি বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হচ্ছে নগরীর সোনাডাঙ্গা ট্রাকস্ট্যান্ড কাঁচাবাজার-সংলগ্ন মুনসুর কমিশনারের বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিন খাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ওরফে রুনা (৩৫), নিরালা আবাসিক এলাকার আজিজুল ফকিরের স্ত্রী সীমা (২০), একই এলাকার রাজু শেখ (৩৯) ও সদর থানাসংলগ্ন গুলশান হোটেলের ভাড়াটিয়া মো. আব্দুল হামিদ (৩২)।
খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতরাসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজন গত ১৪ আগস্ট রোববার দুপুর ১২টার দিকে মো. রমজান আলী নামে এক ব্যক্তিকে কৌশলে ডেকে নিয়ে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে স্বপ্না তাকে একটি রুমের মধ্যে নিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সীমা, স্বপ্না, রাজু শেখ, মহিন আরা বেগম এবং স্থানীয় নিরালা পুলিশ ফাঁড়ির আইসি (ইনচার্জ) এসআই সোহেল রানাসহ কয়েকজন ঘরে ঢুকে তাকে মারধর করে।
একপর্যায়ে সীমাকে নগ্ন করে তার পাশে দাঁড় করিয়ে এসআই সোহেল রানা মোবাইলে ভিডিও করে। পরে সোহেল রানা পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কথা বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে রমজান আলীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। না দিলে রেকর্ডকৃত ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে।
এ অবস্থায় রমজান আলী বাধ্য হয়ে তার স্ত্রীর মাধ্যমে এসআই সোহেল রানার নির্দেশনা অনুযায়ী খুলনা সদর থানাসংলগ্ন বিকাশ এজেন্ট আব্দুল হামিদের নম্বরে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। আরো ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তাকে ছাড়া হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই রমজান আলী বাদী হয়ে এসআই সোহেল রানাসহ ছয়জনকে আসামি করে খুলনা সদর থানায় চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন।
এ ছাড়া রফিকুল ইসলাম নামে আরো এক ব্যক্তিকে একই ফাঁদে ফেলে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। রফিকুলও উল্লিখিত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
ওসি জানান, দুটি মামলায় এসআই সোহেল রানাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তাপস কুমার রায় জানান, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।





