গাড়ি চোর চক্রের সদস্যরা গাড়ি চুরি করে চেসিস নম্বর বদলিয়ে, কাগজপত্র, রং পরিবর্তন করে ফিটনেস বদলাচ্ছে। এরপর তারা বিভিন্ন অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে তা বিক্রী করে আসছে।

বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ‍দু'টি চোরাই গাড়িসহ চোর চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেফতাররা হলেন, ইকবাল হোসেন, মো. জাবেদ, মুশরেকিন আহমেদ রাব্বি, আলী হোসেন ও মো. মহসিন।

গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, 'বুধবার রাতে চুরি হওয়া গাড়ির জাল কাগজ ও রেজিস্ট্রেশন সনদসহ হাতিরপুল এলাকা থেকে আলী হোসেন ও মো. মহসিনকে গ্রেফতার করা হয়।'

গত ১ ডিসেম্বর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ইস্টার্ন প্লাজা এলাকা থেকে ইকবাল হোসেন, মো. জাবেদ ও মুশরেকিন আহমেদ রাব্বিকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বুধবার গাড়ি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা গাড়ি চুরি করে তার চেসিস নম্বর বদলিয়ে, কাগজপত্র, রং পরিবর্তন করে বিভিন্ন অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে তা বিক্রী করতো।

এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, 'গ্রেফতারকৃতরা অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে গাড়ি বিক্রী করে। তবে কোন গাড়িটি তারা অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রী করেছে সেটি তারা এখনো জানায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে তা জানা যাবে।'

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অনলাইনকে ব্যবহার করে গাড়ি চুরির পর তা বিক্রী করার চেষ্টা করছিল গ্রেফতাররা। তাছাড়া প্রধানত দাবি গাড়ি চুরি করে নিজেরা তার চেসিস নম্বর বদলে ফেলতো।

তাছাড়া দামি গাড়ি রাখার জন্য তারা বিভিন্ন এপার্টমেন্টে গ্যারেজ ভাড়াও নিতো বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

ব্রিফিংয়ে অনলাইনে যেকোন পণ্য কেনা বেচা করার সময় গ্রাহকদের পণ্যের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে নেয়ার পরামর্শও দেন উপ পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।

এক প্রশ্নের জবাবে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, শুল্ক বিভাগের কেউ এই গাড়ি চোর চক্রের সাথে জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেইউ/ এআর