মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচ অভিযোগে যশোরের মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন প্রসিকিউশন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রবিবার সকালে প্রসিকিউশন এ সকল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
গত ১৪ জুন তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
রাজধানীর ধানমণ্ডির তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার সমন্বয়কারী আব্দুল হান্নান খান এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বলেন, সাখাওয়াতসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলার তদন্তের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকউশন বরাবর দাখিল করা হবে।
সাখাওয়াত হোসেন (৬১) ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মো. বিল্লাল হোসেন (৭৫), মো. আকরাম হোসেন (৫৯), অজিহার মোড়ল ওরফে ওজিয়ার মোড়ল (৬৪), মো. ইব্রাহিম হোসেন (৬০), শেখ মোহাম্মদ মুজিবর রহমান (৬১), মো. আ. আজিজ সরদার (৬৫), আ. আজিজ সরদার (৬৬), কাজী ওহিদুল ইসলাম (৬১), মো. লুৎফর মোড়ল (৬৯), আব্দুল খালেক মোড়ল (৬৮) এবং মশিয়ার রহমান (৬০)।
এর মধ্যে প্রথম চারজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। বাকিরা পলাতক বলে পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে মোট পাচঁটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৭ আশ্বিন সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে চিংড়া বাজার রাজাকার ক্যাম্পের (তহসিল অফিস) কমান্ডার সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশে ১০ থেকে ১২ জন রাজাকার কেশবপুর থানার বগা গ্রামে একজন নারী এসএসসি পরীক্ষার্থীকে জোর করে তার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে নির্যাতন এবং ধর্ষণ করে।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৮ আশ্বিন আনুমানিক ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে কেশবপুর থানার ২নং সাগরদাড়ি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি শহীদ চাদতুল্য গাজীকে সাখাওয়াতসহ ২৫ থেকে ৩০ জন রাজাকার ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে চার দিন আটক রেখে নির্যাতন করে পয়লা কার্তিক গুলি করে হত্যা করে।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ওই একই তারিখে চিংড়া গ্রামের নুর উদ্দিন মোড়লকে ধরে নিয়ে সাখাওয়াতের নির্দেশে নির্যাতন করা হয়।
চতুর্থ অভিযোগ বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের আশ্বিন মাসের শেষ দিকে এক রাত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সোর্স কেশবপুর থানা হিজলডাঙ্গা গ্রামের আ. মালেক সরকারকে তার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে ২৮ আশ্বিন সকাল আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে চিংড়া বাজারে গুলি করে হত্যা করে।
শেষ ও পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের আশ্বিন মাসের প্রথম দিকে বেলা ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা মিরোন শেখকে তার বাড়ি থেকে ১০ থেকে ১২ জন রাজাকার ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় তিনি পালাতে চাইলে রাজাকারা তাকে গুলি করে। এতে তার বাম হাতে গুলি লাগে। এরপর তাকে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজ্জাক খান বলেন, ২০১২ সালের ১ এপ্রিল এ মামলার তদন্ত কাজ শুরু হয়ে ১৩ জুন এ মামলার তদন্ত শেষ হয়।
তদন্ত কাজে বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাসহ ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
এএইচ





