মাদক মামলায় সদ্য জামিন পাওয়া চিত্রনায়িকা পরীমনির ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের সরকার আড়াল করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, বিষয়গুলো সরকারের অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া দরকার। যারা এ বিষয়গুলোর সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা দরকার।’

আজ শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন এমপি হারুনুর রশীদ। এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

এমপি হারুনুর রশীদ বলেন, ‘অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তাদের সঠিক বিচারের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে মাদক বলেন, গণিকাবৃত্তি বলেন বা জুয়া বলেন, কিছুই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন না।’

পরীমনি প্রসঙ্গে এমপি হারুন বলেন, ‘কয়েকদিন আগে পরীমনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। উনি মুক্তি পাওয়ার পর বলেছেন, কত নাটক করে আমাকে ধরে নিয়ে গেল।

আমাকে বলা হলো- জাস্ট অফিসে যাবেন, আপনাকে কিছু জিজ্ঞাসা করে ছেড়ে দেব। জাস্ট অফিসে যাবেন, বলবেন আর চলে আসবেন। ওমা, পরদিন দেখি আমি গ্রেফতার।

আমি বুঝলাম না কিসের জন্য। এটাকে কেন্দ্র করে যে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, সেই কর্মকর্তাকে এরইমধ্যে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দেওয়া হয়েছে।
এ অভিযানটি র্যাব চালিয়েছিল। র্যাব এটির তদন্তের দাবি জানিয়েছিল, কারণ এর পেছনে অনেক বড় শক্তি জড়িত। এসব অপরাধীদের যারা ব্যবহার করছে, তাদের চিহ্নত হওয়া দরকার।’

তিনি বলেন, ‘পরীমনির ঘটনায় হাইকোর্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হাইকোর্ট বলেছেন, পরীমনিকে জামিন দেওয়া হয়েছে কারণ তিনি একজন নারী। তিনি একজন অসুস্থ এবং তিনি চিত্রজগতে কাজ করেন।

তার জন্য তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে। এটা হলো! রিমান্ডে কেন নেওয়া হলো তাকে? পরপর তিনবার রিমান্ড কেন? এরজন্য হাইকোর্ট জজকোর্টের বিচারকদের নথি তলব করেছে। এটি জনগণের মধ্যে ভিন্ন ধারনার তৈরি করছে।’

বিএনপি দলীয় এ সংসদ সদস্য বলেন, র্যাব যে অভিযান চালিয়ে তাকে (পরীমনি) গ্রেফতার করেছিল, তার বাসায় যে মিনিবার তৈরি করেছিল সেটি কি অসত্য? যেটি টিভি ক্যামেরায় এসেছে।

অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তাদের সঠিক বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

অভিযানে ভয়াবহ মাদক এলএসডি, মদ ও আইস উদ্ধার করা হয়। পরীমনির ড্রয়িংরুমের কাভার্ড, শোকেস, ডাইনিংরুম, বেডরুমের সাইড টেবিল ও টয়লেট থেকে বিপুল পরিমাণ মদের বোতল উদ্ধার করা হয়।

এরপর রাত ৮টা ১০ মিনিটে পরীমনিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে র্যাব সদর-দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব।

পরদিন ৫ আগস্ট বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে পরীমনি, চলচ্চিত্র প্রযোজক রাজ ও তাদের দুই সহযোগীকে নিয়ে কালো একটি মাইক্রোবাসে করে বনানী থানার উদ্দেশে রওনা দেয় র‌্যাবের টিম।

এরপর র‌্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরীমনি ও তার সহযোগী দিপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে।

এইচএন