সিরিয়া যাওয়ার পথে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন তরুণকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যে আইএসে যোগ দেওয়ার চেষ্টায় ছিল বলে এফবিআইয়ের ভাষ্য।

পারভেজ আহমেদ নামের ২২ বছর বয়সী ওই তরুণ নিউ ইয়র্কের স্টাইভ্যাসেন্ট হাই স্কুল শেষ করে হান্টার কলেজে ভর্তি হলেও পড়ালেখায় অনিয়মিত হয়ে পড়েন।

এফবিআই বলছে, গত জুনে সৌদি আরব থেকে সিরিয়া যাওয়ার পথে পারভেজ গ্রেপ্তার হলে নিউ ইয়র্কেও তদন্ত শুরু হয়। কুইনসে পারভেজের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে কম্পিউটার ও কাগজপত্র পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দেওয়াই ছিল পারভেজের উদ্দেশ্য।

গত সোমবার তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানোর পর মঙ্গলবার ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসকে সহযোগিতার চেষ্টার’ অভিযোগ আনা হয় পারভেজের বিরুদ্ধে।

দোষী সাব্যস্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে তার ২০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে।

আদালতে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়, গত জুন মাসে রোজার সময় সউদি আরবে যাওয়ার পর উধাও হয়ে যান পারভেজ। পরে পরিবারের উদ্দেশ্যে লেখা তার একটি বার্তা পাওয়া যায়।

সেখানে বলা হয়েছে, “তোমাদের কষ্ট দিয়ে থাকলে আমাকে ক্ষমা কোরো। তোমাদের যা শেখাতে চেয়েছি, দয়া করে তা স্মরণ কোরো।”

পারভেজ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আইএস এর কর্মকাণ্ডের পক্ষে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন বা ছবি শেয়ার করেছেন এবং জিহাদে যোগ দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়ে যেসব পোস্ট তিনি দিয়েছেন, যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন- সেসব তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে।

সেখানে বলা হয়, গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ঘুরে গিয়ে নিউ ইয়র্কে ফেরার সময় বিমানবন্দরে এফবিআই এর এক এজেন্ট পারভেজের মুখোমুখি হন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওইসব পোস্ট দেওয়ার ব্যাখ্যায় তিনি তখন বলেছিলেন, মানসিকভাবে খুব খারাপ অবস্থায় থাকায় তিনি গাঁজায় আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং সে সময়ই ওই ধরনের পোস্ট দিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার আদালতে হাজির করার পর এফবিআইয়ের বক্তব্য শুনে পারভেজকে জামিনহীন আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

এএইচ