টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে তিন দফায় গণধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

টাঙ্গাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান জানান, গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কালিহাতী থেকে স্বামী-স্ত্রী টাঙ্গাইল শহরের নুতন বাসটার্মিনাল এলাকায় এলে কয়েকজন যুবক তাদের ঘেরাও করে। পরে তাদের দুইজনকে বাস টার্মিনাল এলাকার ডিসি লেক পারে নিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, নির্যাতনের শিকার ওই নারী তার স্বামীর সাথে কালিহাতী থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে টাঙ্গাইল শহরের নুতন বাস টার্মিনাল এলাকায় ওই বখাটেরা কৌশলে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা হাতিয়ে নেয়।

পরে স্বামীর গলায় ছুরি ধরে পাশের নির্জন ডিসি লেক পাড়ে নিয়ে প্রথম দফা স্ত্রীর উপর নির্যাতন চালায়। কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে তাদেরকে শহরের কোদালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত একটি কক্ষে নিয়ে কয়েক দফায় পাশবিক নির্যাতন চালায়। এ সময় তার স্বামী কৌশলে পালিয়ে গিয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

পুলিশ খবর পেয়ে ভোর রাতে নির্যাতন চালানো অবস্থায় অভিযুক্ত ছয়জনকে আটক করে। বর্তমানে নির্যাতনের শিকার ওই নারী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ বিষয়ে শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শহরের তিনটি স্থানে ওই গৃহবধুকে গনধর্ষণ করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করে। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে। অপর জড়িতদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সুপার আরো বলেন আটক হওয়াদের মধ্যে থানায় ইউসুফের নামে ৪ টি, রবিনের নামে ২ টি ও মফিজের নামে ৫টি মামলা রয়েছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, এবিষয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গণধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ওই চিকিৎসক।

টাঙ্গাইল মডেল থানা ওসি সায়েদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এরই মধ্যে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের নামে একাধিক মামলা রয়েছে।

গতমাসে জেলার সখিপুরেও বন্ধুকে বেধে রেখে বান্ধবীকে বনের ভিতর নিয়ে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

 

 

এএস