একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করতে কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছেন তার আইনজীবীরা।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার কিছু আগে কারা ফটকে উপস্থিত হন অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনিরসহ পাঁচ আইনজীবী। অন্যরা হলেন- সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাড. নজরুল ইসলাম, অ্যাড. মশিউল আলম, মতিউর রহমান আকন্দ ও গাজী তামিম।
এর আগে বুধবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দণ্ড কার্যকরের জন্য মৃত্যু পরোয়ানা জারি হওয়ায় এখন এই জামায়াত নেতার সামনে খোলা রয়েছে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করা।
মূলত এ বিষয়ে আলোচনা করতেই মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করছেন তার আইনজীবীরা। মৃত্যু পরোয়ানা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছানোর পর বুধবার তা মুজাহিদকে পড়েও শোনানো হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির আদেশের পর আপিল বিভাগও এই জামায়াত নেতার ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছেন। বুধবার সে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বের হয়েছে। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী মুজাহিদ বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছিলেন। ওই রায় চ্যালেঞ্জ করে মুজাহিদের আইনজীবীরা সর্বোচ্চ আদালতে গেলে সর্বোচ্চ আদালতও ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখেন।
তবে প্রসিকিউশনের আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল তাকে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড দিলেও আপিল বিভাগ শুধুমাত্র ষষ্ঠ অভিযোগে অর্থাৎ বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখেন।
বুধবার সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর দণ্ড থেকে বাঁচতে মুজাহিদের সামনে এখন খোলা রয়েছে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের পথ। এতেও যদি তার দণ্ডই থেকে যায় তবে ফাঁসি থেকে বাঁচতে তার সামনে খোলা থাকবে একটাই রাস্তা তা হলো- রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা।
এআর





