রাজধানীর উত্তরায় অপহৃত কলেজ ছাত্রী উদ্ধার হওয়ার পর ঘটনার বিবরণে পুলিশের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন। সে কারণে অপহরণের শিকার ওই কলেজ ছাত্রীকে কে বা কারা অপহরণ করেছিল তা পুলিশনিশ্চিত হতে পারে নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে,মেয়েটি সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। কারা অপহরণ করেছিল এই বিষয়টিই পরিষ্কার হওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর সাবেক প্রেমিকরুম্মনকে গ্রেফতার করা হলেও অপহরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কী না তাও পুলিশ নিশ্চিত হতে পারছে না।
এদিকে শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে(ওসিসি) ওই কলেজছাত্রীর তিনটি মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
হাসপাতালের ওসিসি সূত্রে জানা গেছে, তার বয়স নির্ধারণ, ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব পরীক্ষার রিপোর্ট পুলিশের হাতে পৌঁছতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তবে পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে কলেজছাত্রীর ওপর নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে।
এব্যাপাোরে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক(এসআই) সাহানারা টাইম নিউজবিডিকে বলেন, পরিদর্শন করে ওই কলেজ ছাত্রীকে স্বাভাবিক মনে হয়েছে। এবিষয়ে বেশি কিছু বলতে পারবো না।
এব্যাপারে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের এএসপি লুবনা টাইমনিউজবিডিকে বলেন, কোনো মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে কিনা তা সঠিক বলতে পারছি না। ওই কলেজছাত্রীর সব বিষয় এখন উত্তরা পুর্ব থানা দেখাশোনা করছেন।
পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার নিসারুল আরিফ জানান, কলেজছাত্রী ঘটনা সম্পর্কে অসংলগ্ন তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করছে। এ কারণে তাকে কে বা কারা অপহরণ করেছিল তা এখনো জানা যায়নি।
তিনি জানান, অপহরণের শিকার ওই কলেজছাত্রী প্রথমে পুলিশকে বলেছিলেন, তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। পরে আবার জানায়, যৌন নির্যাতন করা হয়নি। কখনো বলছেন চোখ বাঁধা ছিল, কখনো বলছেন চোখ খোলা ছিল। এতে করে মূল ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারছে না পুলিশ।
উপ-কমিশনার নিসারুল আরিফ আরো জানান, উত্তরা মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী অদ্রি ও ক্যাব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ উত্তরা শাখার শিক্ষক বিপ্লবকে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদশেষেছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে ওই কলেজছাত্রীর সাবেক প্রেমিক রুম্মনকে এখনো আটক রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় উত্তরা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সাহাদাত হোসেন জানান, একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ওই কলেজছাত্রীর। ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষক মাহফুজ ও বিপ্লব, উত্তরার ব্যবসায়ী রুম্মন ও কলেজছাত্রীর সহপাঠী অদ্রির সঙ্গেও তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের ৬ নম্বর বাড়ির সামনে ওই কলেজছাত্রী অপহরণের শিকার হন। এসময় অপহরণকারীদের গুলিতে নিহত হন নিরাপত্তা প্রহরী লিয়াকত হোসেন লিটন। অপহরণকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হন হবু স্বামী মাহফুজল হক।
ঘটনার ৬ ঘণ্টা পর উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের একটি সড়ক থেকে অপহৃতকে পুলিশ ও র্যাব উদ্ধার করে।
ঢাকা, জেইউ, ০৬ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস





