ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে করা রিটটি ইত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্টের একটি অবকাশ কালিন বেঞ্চ।
মঙ্গলবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আবুতাহের মো.সাইফুর রহমানের সমন্বিত বেঞ্চ খারিজের এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া।
আইনজীবী একলাছ উদ্দিন জানান, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচারে বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনের বিষয়ে আমরা দলিলপত্র দাখিল করেছি। সেখানে বাংলাদেশে সম্প্রচারের ক্ষেত্রে ভারতীয় চ্যানেলগুলোর লাইসেন্স রয়েছে।
তিনি বলেন, চ্যানেলের লাইসেন্স থাকলেও ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনের ৯ ও ১০ ধারা মোতাবেক অপসংস্কৃতি, হত্যাযজ্ঞ বা অসামাজিক জিনিস দেখানো আইনের পরিপন্থী।
তাই চ্যানেলগুলো বন্ধে নির্দেশ দিতে আদালতের নিকট আবেদন করেছিলাম। এরপর আদালত এ রিটটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ আদেশ দেয়।
গত ২১ আগস্ট রিটের শুনানিকালে আদালত জানায়, ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচারে সরকারের অনুমোদন আছে কিনা, একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ও এ বিষয়ে রাজস্বের লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে হয় কিনা, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে হলফনামা আকারে দাখিল করেন।
আদালত আরও জানায়, বাংলাদেশের অনেক চ্যানেলেও খুনসহ বিভিন্ন অপরাধের চিত্র দেখানো হয়। টিভি দেখে কে কী শিখবে তার দায়িত্ব আমাদের নয়। অনেকে ভালো কিছু শেখে। আসলে টিভিতে সম্প্রচারিত প্রোগ্রামের দায়িত্ব আমাদের নয়।
উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট ভারতীয় তিনটি চ্যানেল অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে বন্ধ এবং বাকি চ্যানেলগুলোও বন্ধ করার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করেন ওই আইনজীবী। তখন আইনজীবী জানান, ভারতীয় চ্যানেল স্টার জলসা, স্টার প্লাস এবং জি বাংলা বন্ধে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে।
এর আগে ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করতে তথ্য সচিবকে লিগ্যাল নোটিশ দেন ওই আইনজীবী। নোটিশের জবাব না পেয়ে ওই দিন হাইকোর্টে রিট করা হয়।
একলাস উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ভারতে আমাদের দেশের চ্যানেল সম্প্রচারের অনুমতি দেয় না। কিন্তু আমাদের দেশে তাদের চ্যানেল চলছে। আর এতে সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে। সর্বশেষ তাদের একটি টিভি চ্যানেলের সিরিয়ালের চরিত্রের নামে পোশাক কিনতে না পেরে অনেকে আত্মহত্যা করেছে।
তিনি বলেন, দৈনিক আমাদের সময়ে এ নিয়ে ২ আগষ্ট(শনিবার) ‘পাখি প্রেমে প্রাণ বিসর্জন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দেশের ঘরে-ঘরে বাড়ছে ভারতীয় ধারাবাহিক নাটকের জনপ্রিয়তা। এসব সিরিয়াল-প্রীতির কারণে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ক্রমেই দর্শক হারাচ্ছে, দেশ হারাচ্ছে নিজস্ব সংস্কৃতি।
কিশোরী-তরুণীদের ফ্যাশনেও এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সর্বশেষ, ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল স্টার জলসার ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিরিয়ালের ‘পাখি’র প্রেমে প্রাণ গেল এক যুবক ও মেয়ে শিশুর।’
‘পাখি চরিত্রে রূপদানকারী তরুণীর পোশাকের অনুকরণে এবার ‘পাখি’ নামের একটি পোশাক দেশের ঈদবাজারে জমজমাট ব্যবসা করেছে। ঈদে চড়া মূল্যের এ জামা নতুন স্ত্রীকে কিনে দিতে না পারার ব্যর্থতায় আত্মহত্যা করেছে প্রান্তিক শ্রেণির এক যুবক। ঈদের আগের দিন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের নন্দতেঘরী গ্রামে শাহীন নামের ওই যুবক আত্মঘাতী হয়।’
‘পাখির মরণকামড় থেকে ছাড় পায়নি দশ বছরের শিশুও। পাখি নামের পোশাক না পেয়ে অভিমানে ঈদের দু’দিন আগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নূরজাহান নামে দ্বিতীয় শ্রেণীর এক স্কুল শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।’
ঢাকা, কেএ, ২৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর





