মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের

বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগভিত্তিক যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষ হয়েছে।

আগামী রোববার ১৬ নভেম্বর আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বুধবার (১২ নভেম্বর) ষষ্ঠ দিনে ঘটনাভিত্তিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন। ছয় দিনে সুবহানের বিরুদ্ধে ৯টি অভিযোগের মধ্যে সবগুলোর বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।

এর আগে প্রথম দিনে গত ৫ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু ভূমিকা বক্তব্য দেন। এরপর আসামি সুবহান সম্পর্কে বলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন এবং ঘটনাভিত্তিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন।

আগামী রোববার ১৬ নভেম্বর আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন

চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।

রাষ্ট্রপক্ষের পর সুবহানের পক্ষে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। পরে আইন অনুসারে মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমান (সিএভি) রাখবেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ৭ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুবহানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন দুই তদন্ত

কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও মো. নূর হোসাইনসহ রাষ্ট্রপক্ষের ৩১ জন সাক্ষী। তাদের মধ্যে অভিযোগভিত্তিক ঘটনার ২৭ সাক্ষী হলেন- সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী আ ত ম শাহিদুজ্জামান নাসিম, শহীদপুত্র মুক্তিযোদ্ধা তহুরুল আলম মোল্লা, মো. আবু আসাদ, রুস্তম আলী, মো. ইসরাইল, কোরবান আলী, শহীদ জায়া জাহানারা বেগম, আশরাফ উদ্দিন মিয়া, মো. রিয়াজ উদ্দিন মন্ডল, সানোয়ারা খাতুন, মো. ফজলুর রহমান ফান্টু, আব্দুর রহমান সরদার, শহীদ পরিবারের সদস্য মো. আব্দুল মতিন, মোঃ আজিজুল সরদার, মমতাজ উদ্দিন মন্টু, আক্কাছ শেখ, শহীদপুত্র আলী রানা শেখ, আব্দুল আজিজ, নিজাম উদ্দিন খান, হোসেন সরদার, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদপুত্র মো. শহিদুল্লাহ শহিদ, এসএম সামছুল আলম, মো. খোরশেদ আলম, শহীদপুত্র মো. সামছুল আলম, আবদুল বাতেন, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক এবং এস কে শহীদুল্লাহ।

আর জব্দ তালিকার দুই সাক্ষী হচ্ছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার

গ্রন্থাগারিক আনিসুর রহমান ও বাংলা একাডেমির সহকারী গ্রন্থাগারিক এজাবউদ্দিন মিয়া।

অন্যদিকে সুবহানের পক্ষে ৩ জন সাক্ষী সাফাই সাক্ষ্য দেবেন বলে ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ

করে দিলেও কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করেননি আসামিপক্ষ।

গত ১ এপ্রিল সুবহানের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেন

প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন।

গত ২৭ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-১ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করেন।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ

ও ষড়যন্ত্রসহ ৮ ধরনের ৯টি মানবতাবিরোধী অপরাধে সুবহানের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ)গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের ২৩ অক্টোবর ও ২৪ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের বিপক্ষে ও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আসামিপক্ষে শুনানি করেন সুবহানের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান।

অন্যদিকে ৯ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন।

গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সুবহানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ১৫ সেপ্টেম্বর সুবহানের বিরুদ্ধে ৮৬ পৃষ্ঠার ওই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেন প্রসিকিউশন।

এসএইচ