একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আলোচিত জজ মিয়ার মা জোবেদা খাতুনকে বুধবার জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
বেলা পৌনে ১১টায় এ জেরা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অস্থায়ী বিশেষ আদালতে তিনি জবানবন্দি দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই আদালতের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তার জেরা হয়নি।
রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম পাবলিক প্রসিকিউটর আকরাম উদ্দিন শ্যামল জানান, বেলা পৌনে ১১টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর জজ মিয়ার মা জোবেদা খাতুনকে জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
বুধবার সাক্ষ্য দিতে জজ মিয়া ও তার বোন খোরশেদা আক্তারও আদালতে উপস্থিত থাকবেন। জোবেদা খাতুনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সময় থাকলে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. শাহেদ নুর উদ্দিন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা গ্রহণ করবেন।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০৫ সালে জজ মিয়াকে আটক করে বহুল আলোচিত ‘জজ মিয়া নাটক’ সাজানো হয়। ২০০৮ সালে তাকে আসামি থেকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। পরে আদালত এ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেন। ২০০৯ সালে মুক্তি পান জজ মিয়া। পরবর্তীতে এ মামলা অধিকতর তদন্তে গেলে আগের চার্জশিটের ২২ আসামিসহ ৫২ জনকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ। জজ মিয়া ও তার মা-বোনকে সে সময় এ মামলায় সাক্ষী করা হয়।
জোবেদা খাতুন তার জবানবন্দিতে বলেন যে, জজ মিয়া গ্রেফতারের পর সিআইডি তাকে মাসে মাসে টাকা দিত। মালিবাগের সিআইডি অফিসে গিয়ে তিনি ছয়মাসে সাড়ে ১২ হাজার টাকা এনেছিলেন। কিন্তু সপ্তম মাসে টাকা আনতে যাওয়ার আগে আমার মেয়ে খোরশেদা মিডিয়ার কাছে টাকা নেওয়ার কথা বলে দেওয়ায় তাকে আর কোনো টাকা দেয়নি সিআইডি।
এ মামলার সাক্ষী সংখ্যা মোট ৪৯১ জন। জোবেদা খাতুন ১০২তম সাক্ষী হিসাবে সাক্ষ্য দিচ্ছেন।
এ মামলার জামিনে থাকা আসামিরা হলেন, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি’র সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডি’র সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম।
অন্যদিকে সাবেক মন্ত্রী জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ২৫ জন কারাগারে আছেন।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জন আসামি পলাতক আছেন।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের জনসভায় সন্ত্রাসীরা ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালায়। হামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নির্মমভাবে নিহত হন।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। আহত হন শতাধিক নেতাকর্মী।
এ ঘটনায় মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় পৃথক তিনটি এজাহার দায়ের করেন।
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





