সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও কামারুজ্জামানের প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, উচ্চ আদালত যে রায় দেন তাই কার্যকর করা হয়। কিন্তু কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভক্ত রায় এসেছে। সেহেতু ন্যায় বিচারের সার্থে কামারুজ্জামান রিভিউ আবেদন করার সুযোগ দেয়া উচিত।
বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
পুর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকর না করার অনুরোধ জানান তিনি। তিনি বলেন ৫টি অভিযোগের বিভিন্ন ধারায় তাকে সাজা দিয়েছে আপিল বিভাগ কোনো অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখেন।এর মধ্যে ৩ নং অভিযোগে সোহাগ পুরের ঘটনায় তাকে মৃত্যুদন্ড দেন ট্রাইব্যুনাল পরে আপিল বিভাগ তা বহাল রাখেন।
‘আপিল বিভাগের রায় কি ভুল?’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আদালতের জাজমেন্ট ভুল না। তবে জাজম্যান্টের পর রিভিউ করার সুযোগ সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে। সেই হিসেবে কামারুজ্জামানের আপিল রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করার সুযোগ চাচ্ছি আমরা। আমাদেরকে সুযোগ দেয়াও উচিৎ।’
তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ যদি অনুসরণ নাও করা হয়, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সাজার ব্যাপারে বিবেচনা করতে পারেন।’
ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। দেশেও এটিকে নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কারণ এই ট্রাইব্যুনালে যে বিচার করা হয়েছে, শোনা সাক্ষীর উপর ও বায়বীয় অভিযোগের ভিত্তিতে। অথচ এমন কথার উপর বিচার করা যায় না।
কামারুজ্জামানের এ আইনজীবী বলেন, ‘কাদের মোল্লার সময় রিভিউ আবেদন সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি এখনো আমরা হাতে পাইনি। সেটি পেলে বুঝা যেতো এ মামলার বিষয়ে রিভিউ করা যাবে কি-না। কাজেই আমরা বলবো কামারুজ্জামানের বিষয়ে রিভিউ করা যাবে।
'তিনি বলেন, ‘সোহাগপুরের বিধবাপল্লীতে হত্যার ঘটনায় কামারুজ্জামানকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সোহাগপুরের এ বিধবাপল্লীর কথা কেউ জানেও না, চেনেও না।’
এসময় এক সাংবাদিক বলেন, ‘আমরা তো জানি সোহাগপুরে বিধবাপল্লী রয়েছে।’ তখন খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘তাহলে এতোদিন পর কেন এ বিচার? আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এ বিচার করা হয়েছে। যা মোটেও কাম্য নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘ওই সময় (একাত্তরে) ১৯৫ পাক আর্মি আত্মসমর্পণ করেছিল। তখন শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। কাজেই এখন আর এ বিচার করা ঠিক নয়। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণেই এ বিচার করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় গত সোমবার ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় দেন আপিল বিভাগ।
কেএ/এএইচ





