একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সাক্ষ্য দ্বিতীয় দিনের গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ।
বুধবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী।
আসামীপক্ষে ছিলেন, অ্যাডভোকেট গাজী এইচএম তামীম।
সাক্ষ্যে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন মামলার তদন্ত বিষয়ে সাক্ষ্য দেন।
তিনি বলেন, মামলাটি আমি সরেজমিনে তদন্ত করি। তদন্তকালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে লিখিত বিভিন্ন বই, পত্রিকা, ভিডিও চিত্র, বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারদের দেয়া ডকুমেন্ট পর্যালোচনা করি।
তিনি আরো বলেন, তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত তথ্যাদি পর্যালোচনা করি। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ঘটনা ও ঘটনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধান করি।
হেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলা একাডেমী এবং পিআইবি’তে ১৯৭১ সালের এবং এর পূর্বের এবং পরবর্তী সময়ের পত্রিকা তল্লাশি করি ও পর্যালোচনা করি।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সিজ করি এবং কোন কোন ক্ষেত্রে জিম্মায় প্রদান করি। আসামী একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে রুজুকৃত মামলাগুলো পর্যালোচনা করি। মামলার প্রত্যেকটি ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে গোপনে ও প্রকাশ্যে তদন্ত করি।
তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের তার তদন্তের সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরে বলেন, তদন্তকালে গত ১৩/১২/২০১২ তারিখে বাংলা একাডেমী থেকে ১৬টি পত্রিকা সিজ করে সংশ্লিষ্ট অংশের স্ক্যানকৃত কপি সংগ্রহ করে মূল পত্রিকা গুলো জিম্মায় প্রদান করি।
তদন্তকালে গত ১৭/১২/২০১২ তারিখে বাংলা একাডেমী থেকে ১৪টি পত্রিকা সিজ করে সংশ্লিষ্ট অংশের স্ক্যানকৃত কপি সংগ্রহ করে মূল পত্রিকা গুলো জিম্মায় প্রদান করি।
তদন্তকালে গত ২০/১২/২০১২ তারিখে বাংলা একাডেমী থেকে ১৬৪টি পত্রিকা সিজ করে সংশ্লিষ্ট অংশের স্ক্যানকৃত কপি সংগ্রহ করে মূল পত্রিকা গুলো জিম্মায় প্রদান করি।
তদন্তকালে গত ০৩/০৩/২০১৩ তারিখে পিআইবি’র লাইব্রেরী থেকে ০২টি পত্রিকা সিজ করে সংশ্লিষ্ট অংশের স্ক্যানকৃত কপি সংগ্রহ করে মূল পত্রিকা গুলো জিম্মায় প্রদান করি।
তদন্তকালে গত ১৭/০২/২০১৩ তারিখে তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরী হতে জেলা প্রশাসক বাগেরহাট হতে প্রাপ্ত তথ্যাদি সিজার লিষ্ট ফটোকপি সংগ্রহ করে এবং মূল কপি এস আই আনিসুর রহমানের জিম্মায় প্রদান করি।
তদন্তকালে গত ২৪/০২/২০১৩ তারিখে তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরী হতে স্বারাষ্ট মন্ত্রনালয় হতে প্রাপ্ত রাজাকার অর্ডিনেন্স, দি ঢাকা গেজেট, লিষ্ট অব এম এন এ’স নবম খন্ড পৃষ্ঠা-২৪৩।
তদন্তকালে গত ১৭/০২/২০১৩ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের লাইব্রেরী হতে অধ্যাপক আবু সাইদের লেখা যুদ্ধাপরাধ প্রেক্ষিত বাংলাদেশ বইয়ের ১২৮-১৩২ পৃষ্ঠা সিজ করে ফটোকপি সংগ্রহ করি এবং এস আই আনিসরি রহমানের জিম্মায় প্রদান করি।
তদন্তকালে গত ২৩/০৩/২০১৩ তারিখে সাহিত্য বিলাশ ৩৮/৪ বাংলা বাজার ঢাকা হতে স্বরোচিত সরকারের লেখা ‘একাত্তরের বাগেরহাট’ বইটি সিজ করি।
তদন্তকালে গত ২৪/০২/২০১৩ তারিখে এটিএন বাংলা টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত প্রামান্য চিত্র ‘একাত্তরের ঘাতকেরা’ নামক ডিভিডি পত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করি।
তদন্তকালে গত ০৫/১০/২০১২ থেকে ২১/০৪/২০১৩ তারিখ পর্যন্ত বিবিন্ন সময়ে মামলার বিভিন্ন ঞটনাস্থলে হাজির হয়ে মামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন সাক্ষীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি।
মামলায় তদন্তে ও সাক্ষ্য প্রমানাদিতে আসামী একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইবুনালস) এ্যাক্ট ১৯৭৩ এর ৩(২), ৪(১) এবং ৪(১) ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় মাননীয় ট্রাইবুনালে বিচারের জন্য তদন্তকালে সংগৃহিত সকল ডকুমেন্টসহ বিজ্ঞ চীফ প্রসিকিউটর বরাবর গত ২১/০৪/২০১৩ ইং তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করি।
সাক্ষ্য গ্রহণ অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করেন।
গত ১ আগস্ট মাওলানা ইফসুফের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল।
গত ৬ মে তার পক্ষে করা জামিন আবেদন খারিজ করেছেন।
গত ১২ মে ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর ধানমন্ডির বাসা থেকে জামায়াতের এই নেতাকে গ্রেফতার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
গত ৮ মে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর রাষ্ট্রপক্ষে কৌসুলি অ্যাডভোকেট হৃষিকেষ সাহা ১৫ টি অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে।
গত ২২ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে তদন্তের চুড়ান্ত প্রতিবেদন রাষ্ট্রপক্ষ বরবার জমা দেন তদন্ত সংস্থা।
একাত্তরে ৭শ জনকে গণহত্যা, ৮ জনকে হত্যা, ২শ হিন্দু লোককে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করাসহ ৩শ বাড়ী লুন্ঠন এবং ৪শ দোকান লুন্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করার অপরাধ আনা হয়েছে।
একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে (ফরমাল চার্জে) মূল ৮৫পৃষ্ঠার ১৫ টি অভিযোগের ভিত্তিতে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয় ।
তদন্ত সুত্রে জানা যায় একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি তদন্ত শুরু করে গত ২১ এপ্রিল শেষ করে।
গত ২৩ জুন একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি প্রথম ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ১ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করার আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-১।
মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশে পাকিস্তানিদের গঠন করা কথিত মালেক সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ইউসুফ এক সময় জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্বও পালন করেছেন।
[b]ঢাকা, জানুয়ারি ২৯ (টাইমনিউজবিডি.কম) // জিই[/b]
অপরাধ
মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ অব্যাহত
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সাক্ষ্য দ্বিতীয় দিনের গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ।





