ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (আইসিটি) মামলায় দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদকে এক বছরের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো: এমদাদুল হক ও মো: আকরাম হোসেন চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন- জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকর মাহবুব হোসেন ও মোহাম্মদ শিশির মনির।
আইনজীবী শিশির মনির গণমাধ্যমকে জানান, সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদকে আদালত রুলসহ এক বছরের জামিন দিয়েছেন।
শুনানিতে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আবুল আসাদ বাংলাদেশের সবচেয়ে বয়জ্যেষ্ঠ সম্পাদক। একজন বয়জ্যেষ্ঠ ও প্রবীণ সম্পাদকের পক্ষে সংবাদপত্রের সকল সংবাদ সবসময় পরীক্ষা করে দেখা সম্ভব হয় না। তাছাড়া আব্দুল কাদের মোল্লাকে নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে তার জন্য ইতিমধ্যেই তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি অসুস্থ ও দীর্ঘ প্রায় আট মাস কারাবন্দী। তাকে জামিন প্রদান করলে মামলার সাক্ষ্য প্রমাণে প্রভাব পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
পরে এ্যাডভোকেট শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করতে হলে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে 'কমপ্লেইন্ট'-এর মাধ্যমে করতে হয়। কিন্তু এ মামলাটি একজন ব্যক্তি থানায় এফ.আই.আর দায়েরের মাধ্যমে করেছেন যা আইন দ্বারা বারিত। অন্যদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করতে হলে অভিযোগের বিষয়টি কোন ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার হতে হবে। কিন্তু এ মামলায় বাদী প্রিন্টেড পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন যা এ আইনে বিচার্য নয়। এছাড়া জামিন প্রদানের সময় মাননীয় আদালত আসামির প্রায় ৮০ বছর বয়সের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরদিন ১৩ ডিসেম্বর পত্রিকাটির কার্যালয় ভাঙচুর করে ‘মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে’র একদল নেতাকর্মী। মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সেক্রেটারি আল মামুনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বিকাল ৫টার দিকে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ভাঙচুর চালায়। তারা কার্যালয়ে ঢুকে বেশ কয়েকটি টেলিভিশন, কম্পিউটার ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে হাতিরঝিল থানায় নিয়ে যায়। ওইদিন রাতে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আফজাল সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদকসহ ৭-৮ জনকে আসামি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন।
এমবি





