একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামালপুরের ৮ ‘রাজাকার’র বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রেজিস্ট্রার কার্যালয় বরাবর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বলের নেতৃত্বে প্রসিকিউশন টিম ১০৭ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়ার বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন নির্ধারণের আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৫ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
এদিকে গত ২৪ মার্চ বেলা ১১টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ধানমণ্ডিস্থ কার্যালয়ে সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত ৯২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে জামালপুরের এ আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা, লাশ গুম, লুটপাট, নির্যাতন ও অপহরণসহ ১০ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনের অভিযাগ পাওয়া গেছে।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৬ পাতার দালিলিক প্রমাণ এবং ৪০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধের সময়কাল ১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধরা হয়েছে।
এই আসামিরা মুক্তিযুদ্ধের সময় জামালপুরে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে হত্যা, ৫০ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস করে প্রায় ১২ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- জামালপুর শহরের নয়াপাড়া এলাকার অ্যাডভোকেট শামছুল হক (৭৫) ও সিহংজানি বালক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা এসএম ইউসুফ আলী (৮২)।
এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- মো. আশরাফ হোসেন, অধ্যাপক শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মো. আব্দুল মান্নান, মো. আব্দুল বারি, হারুন ও মো. আবুল কাসেম।
জেআই





