বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজধানীর দারুসসালাম থানার ৮ মামলাসহ ১১ মামলার শুনানির জন্য আগামী ২৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ (০৭ অক্টোবর) এই ১১ মামলার মধ্যে একটি মামলা অভিযোগপত্র গ্রহণের জন্য ও বাকি ১০ মামলা অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।

মামলাগুলোর অধিকাংশই হাইকোর্টে স্থগিত আছে জানিয়ে সময়ের আবেদন করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া।

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ তা মঞ্জুর করে আগামী ২৮ অক্টোবর শুনানির জন্য নতুন করে দিন ধার্য করেন। 

মামলাগুলোর মধ্যে দারুসসালাম থানার নাশকতার ৮ মামলা, যাত্রাবাড়ি থানার ১টি হত্যা মামলাসহ ২ মামলা ও রাষ্ট্রদ্রোহের ১টি মামলা। 

২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে’খালেদা জিয়া বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। আজকে বলা হয়, এতো লাখ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, “তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চান নি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।”

খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে দেশদ্রোহী অ্যাখ্যা দিয়ে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

এছাড়াও, ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ির কাঠেরপুল এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়ে নুর আলম নামে এক যাত্রী হত্যার অভিযোগে যাত্রাবাড়ি থানায় ২ মামলা ও একই সালের বিভিন্ন সময় দারুসসালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে দারুসসালাম থানায় ৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।   

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ -এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। একই সঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৫ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রত্যেকের ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন আদালত।

রায়ের পর থেকেই একমাত্র বন্দ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করেন।

আদালতের নির্দেশে কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে শনিবার (০৬ অক্টোবর) বেলা ৩টা ৪১ মিনিটে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ৭১৬০ নম্বর গাড়িতে করে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়।  

শনিবার (০৬ অক্টোবর) বিএসএমএমইউ-এর ৬১২ নম্বর কেবিনে ভর্তির পর মেডিক্যাল বোর্ড প্রধান অধ্যাপক ডা. আবদুল জলিল চৌধুরী তাকে দেখে আসেন। আর আজ তার চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করেছে মেডিক্যাল বোর্ড। তবে এখনও খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়নি। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন।

এমবি