বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দ দেওয়া, প্লট পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকা আয় করা ও বিপুল অর্থ সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগ থেকে রাজউকের সাবেক পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ মুসাকে অব্যাহতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি কমিশন এ অব্যাহতির বিষয়টি অনুমোদন দেয়।

গত ১৬ জুলাই দুদক সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খানের সই করা এক চিঠিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে অভিযোগটি নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুদকের ওয়েবসাইটেও অব্যাহতির চিঠিটির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ মুসা বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বাজেট) হিসেবে কর্মরত।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, মা, স্ত্রী ও নিজের নামে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তসচিব খোন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান এবং মামলার তদন্তের সময় মোহাম্মদ মুসার নানা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারে দুদক। সূত্রটি আরও জানায়, মোহাম্মদ মুসা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উপপরিচালক ও পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উত্তরা আবাসিক প্রকল্প ও পূর্বাচল প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পে শত শত প্লটের আয়তন পরিবর্তন করেন। খোন্দকার শওকত হোসেনের যে তিনটি প্লটের আয়তন পরিবর্তন করা হয় সেটির ক্ষেত্রেও মূল ভূমিকা পালন করেন মুসা। এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার দালিলিক প্রমাণও পাওয়া যায় দুদকের তদন্তে।

সূত্র জানায়, রাজউকের উত্তরা প্রকল্পের ১৩ নম্বর সেক্টরে পাঁচ কাঠা আয়তনের ৮৬ নম্বর প্লটটি লিজ-বরাদ্দ পান একটি বেসরকারি জাহাজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. আইনুল হক। সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে বরাদ্দ পেলেও সাবেক সচিব শওকতের ইচ্ছায় মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে আইনুল হকের বরাদ্দ বাতিল করে রাজউক। বিধিতে না থাকলেও একজনের বরাদ্দ বাতিল করে আরেকজনের নামে পুনরায় বরাদ্দ দেওয়ার সব কার্যক্রম সম্পাদন করেন মোহাম্মদ মুসা। পরবর্তীতে খোন্দকার শওকত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি হলে মুসাও ওই মন্ত্রণালয়ে বদলি হন।

খোন্দকার শওকতের প্লটের আকার পরিবর্তনের সঙ্গে মুসার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে দুবার দুদকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের সে সময়ের উপপরিচালক যতন কুমার রায়। কিন্তু মোহাম্মদ মুসার দুর্নীতির অনেক তথ্য পাওয়ায় শওকতের সঙ্গে মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে আলাদাভাবে শুরু করা হয় অনুসন্ধান। খোলা হয় নতুন ফাইল। উপপরিচালক এস এম রফিকুল ইসলাম মোহাম্মদ মুসার বিরুদ্ধে অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন।

এতে তার বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দ দেওয়া, প্লট পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকা আয় করা ও বিপুল অর্থ সম্পত্তির মালিক হওয়ার অনেক তথ্য-উপাত্ত পেলেও অদৃশ্য ইশারায় সেসব ফাইলবন্দি থেকে যায়। আর তাতেই তিনি অব্যাহতি পেয়ে যান বলে সূত্র জানায়।

এ প্রসঙ্গে জানতে দুদক সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খানকে আজ মঙ্গলবার বিকেলে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ইআর