সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের উপর ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের কোপের আঘাতে গুরুতরভাবে আহত হওয়া এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো চাঞ্চল্যকর এই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিতে পারেনি পুলিশ।
গত মাসের ৩ তারিখ বিকেলে সিলেট এমসি কলেজে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় কলেজ ক্যাম্পাসের পুকুর পাড়ে ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের চাপাতির আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেয়া হবে।
এদিকে নানান জল্পনা-কল্পনা, উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যদিয়ে দিন কাটছে খাদিজার পরিবারের। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনো খাদিজা সেখানে চিকিৎসাধীন। হামলার পরদিন খাদিজার চাচা বাদি হয়ে নগরীর শাহপরান থানায় বদরুলকে একমাত্র আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রুকন উদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই মামলার তদন্ত করছে। চাঞ্চল্যকর বিবেচনায় একটু সময় নিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে যাতে আসামি পার পেতে না পারে। তবে শিগগিরই এই মামলার চার্জশিট আদালতে দেয়া হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন বলেছেন, আদালতে পার্জশিট জমা দেয়ার পর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে খাদিজার খবর শুনে সৌদিআরব থেকে ছুটে আসেন তার বাবা মাসুক মিয়া ও চীনে ডাক্তারি পড়তে যাওয়া ভাই শাহীন। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কাটে খাদিজার দিনরাত। নৃশংস এ ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে গোটা দেশ। প্রতিবাদের রেশ গিয়ে ঠেকে দেশের বাইরেও। বিভিন্ন স্থান থেকে দাবি উঠে বদরুলের শাস্তির। পরে বদরুলের ছাত্রত্ব বাতিল করে শাবি প্রশাসন। তাকে আসামি করে খাদিজার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। বদরুল বর্তমানে কারাগারে।
খাদিজার সুস্থতার জন্য জায়গায় জায়গায় চলে দোয়া ও প্রার্থনা। কয়েক দফা অপারেশনের পর খাদিজাকে রাখা হয় লাইফ সার্পোটে। ডাক্তাররা প্রাথমিকভাবে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন। এসময় তারা খাদিজার বাঁচার আশা ৫ শতাংশ বলে জানান। অবশেষে খাদিজা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। প্রথমে তার লাইফ সার্পোট খোলা হয়।
এখন তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। অনেকে খাদিজার এ ফিরে আসাকে মিরাকল বলে অভিহিত করেছেন। তবে তার পুরো সুস্থ হয়ে উঠতে আরো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। খাদিজার পরিবারের আশা খাদিজা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবারো ফিরে আসবেন তাদের মাঝে।
এমবি





