চার বছর ৩ মাস অপেক্ষায় থাকার পর অবশেষে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের আয়কর ফাঁকির মামলার অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি হয়েছে। আগামী ৬ আগস্ট আদেশের দিন ধার্য করেছেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত।

রোববার অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পিপি মোহা. কবির হোসাইন। চার্জ গঠনের বিপক্ষে শুনানি করেন বাবরের আইনজীবী টিএম আকবর। তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

বাবর এ মামলায় জামিনে থাকলেও ২১ আগস্ট মামলায় কারাগারে আটক আছেন।শুনানি শেষে বিচারক রেজাউল ইসলাম আগামী ৬ আগস্ট আদেশ দানের জন্য দিন ধার্য করেছেন।২০১০ সালের ৯ মার্চ মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বদলি করা হয়।

এরপর গত ৪ বছর ৩ মাসে ৪৭টি ধার্য তারিখেও মামলার শুনানি হয়নি। এ মামলা বাতিল চেয়ে করা আবেদন শুনানির অপেক্ষায় আছে- এ কারণ দেখিয়ে একের পর এক সময়ের আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

গত ২৯ মে একই কারণ দেখিয়ে শেষবারের মতো চার্জ শুনানির সময় বাড়ানোর আবেদন করেন বাবরের আইনজীবী টিএম আকবর। আদালতে তিনি বলেন, মামলাটি বাতিল চেয়ে করা আবেদন হাইকোর্টে শুনানি হয়েছে। আদেশ এখনও হয়নি। পরে রোববার ২৯ জুনানি শেষবারের মতো শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পিপি মোহা. কবির হোসাইন বলেন, মামলাটির চার্জ শুনানিতে হাইকোর্ট কোনো স্থগিতাদেশ দেননি। তারপরও গত চার বছর মামলাটির শুনানি না করে সময় নিচ্ছিলেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। অবশেষে রোববার শুনানি শেষে ৬ আগস্ট আদেশ দেবেন বলে দিন ধার্য করেছেন আদালত।

২০১০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উপ-কর কমিশনার সৈয়দ জাকির হোসেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকির অভিযোগে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাবর ১৯৯৯-২০০০ করবর্ষ থেকে ২০০৮-২০০৯ করবর্ষ পযর্ন্ত তার মালিকানাধীন মাস্টার ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের পরিচালক হিসাবে ৮ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার ১১২ টাকার সম্পদের হিসাব গোপন করে তার ওপর প্রযোজ্য প্রায় ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার কর ফাঁকি দিয়েছেন।

ঢাকা, ২৯ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ